অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

লন্ডন এখন মুখরিত অলিম্পিকের সুরে সুরে। আজ বৃটেনের রাণী এলিজাবেথ আনুষ্ঠানিকভাবে অলিম্পিকের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

তারপর নাচ-গানে ভরা বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশের প্যারেড। অলিম্পিক মশাল প্রজ্বলিত করা। আর চিরাচরিত রেওয়াজের মাঝেই ১৬ দিন ধরে চলবে হারজিতের আনন্দ বেদনার কাহিনী। আজকের অলিম্পিক সমাচারে এ সব কথাই শোনাচ্ছেন - রোকেয়া হায়দার।

লণ্ডন অলিম্পিক উদ্বোধনের আর মাত্র ঘন্টাখানেক বাকী। টেমস নদীর সেতুতে ঝুলছে অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী অঞ্চলের প্রতীক পাঁচটি চক্র। আজ দিনের শুরুতেই বিগ বেনের তিন মিনিটে ৪০বারের ঘন্টাধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো চারিদিকে। দর্শকভক্তদের কলগুঞ্জনে মুখরিত স্টেডিয়াম। সবার মনে নানা প্রশ্নের মাঝে একটি কৌতুহল বড় হয়ে উঁকি দিচ্ছে, এবারের অলিম্পিক মশালটি জ্বালাবেন কে? কোন আভাষ কি পাওয়া গেছে? না এখনও জানা যায়নি।

এই ত্রিভুজ আকৃতির মশালটি কেন তিন কোনা? অনেকেই হয়তো জানতে চাইবেন। কারণ অলিম্পিকের তিনটি মূল্যবোধ – মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব আর বন্ধুত্ব এবং তিনটি মুল লক্ষ্য – আরও দ্রুত, আরও উপরে এবং আরও শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য। গ্রীস থেকে মশাল এসেছে বৃটেনে তারপর ১৯শে মে ল্যাণ্ডস এণ্ড থেকে ৭০ দিনের যাত্রা শুরু করে বৃটেনের ১২ হাজার ৮শো ৭৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মশাল এলো লণ্ডনে। এবার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তার প্রবেশ।
লণ্ডনের সাজটা কেমন জানতে ইচ্ছে করছে তাই না? বাংলাদেশের শারমিন আখতার রত্না তুখোড় শ্যুটার, রত্নার কোচ মোহাম্মদ শোয়েবুজ্জামন।

আমরা মোহাম্মদ শোয়েবুজ্জামানের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি বললেন, ‘এখানে সব কিছু ছিমছাম পরিচ্ছন্ন কিন্তু শহরে যে অলিম্পিকের মত বিরাট উত্সব চলছে তা বোঝা যায় না। সে রকম সাজ নেই। চার বছর আগে বেজিং অলিম্পিকের যে সাজ ছিল তা ঠিক এখানে নেই। অলিম্পক উপলক্ষ্যে যে সাজসজ্জা, রমরমা ভাব সেটা নেই। খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়া, অলিম্পিক ভেন্যু ও ভিলেজের ব্যবস্থা খুবই ভাল, তবে আপনি যদি এখন লণ্ডনে আসেন বাইরে বুঝতে পারবেন না যে এখানে অলিম্পিক হচ্ছে। এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থাও সুন্দর। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দারুণ কড়াকড়ি’।

ওহ, আরও একটি দারুণ খবর। অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনমাতানো নাচের আয়োজনে রয়েছেন বাংলাদেশের করিওগ্রাফার আকরাম খান।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডী মিশেল ওবামা আমেরিকান দলের সঙ্গে রয়েছেন। তিনি খেলোয়াড়দের বলেন, দেশ তাদের জন্য গর্বিত। তিনি বলেন, ‘কয়েকবছর অন্তর সারা বিশ্ব জুড়ে লক্ষ কোটি মানুষের জন্য এই গেমস নিয়ে আসে গৌরব, উত্তেজনা, আপনারা যে কার জীবনের অনুপ্রেরণা সে কথা কেউই জানে না’। অলিম্পিকে অংশগ্রহণ বিরাট সাফল্য বলে তিনি মনে করেন।
শহরবাসীদের অনেকে আবার বিরক্ত যাতায়াতের কড়াকড়ির জন্য। কিন্তু কি আর করা---বিশ্বের সেরা ক্রীড়াউত্সব অলিম্পিকের আয়োজন এইভাবেই শুরু হয়।
XS
SM
MD
LG