অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্বের লক্ষ লক্ষ শিশুকে টিকা না দেওয়ায় তারা ঝুঁকির মুখে


বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সর্তক করেছে যে সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ শিশু অসুস্থ, বিকলাংগ অথবা মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যেসব মারাত্মক রোগ টিকা দিয়ে নিরোধ করা সম্ভব সেই টিকাগুলো তাদের দেয়া হচ্ছে না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর থেকে আমাদের সংবাদদাতা লিসা স্লাইন জানান যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সর্তক করেছে যে সারা বিশ্বের ৯০ শতাংশ শিশুকে টিকা দানের যে লক্ষ্যমাত্রা তাদের ছিল তা বিলম্বিত হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, সারাবিশ্বের ৫ জন শিশুর ১ জনকে জীবন রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিকা দেওয়া না। ২০১৩ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে ২ কোটি ২০ লক্ষ শিশুকে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস এবং পার্টুসিস রোগের টিকা দেওয়া হয়নি। শিশু জন্মের দু’মাস পর থেকেই এই টিকা দেওয়া শুরু হয় এবং ৩টি টিকা পরপর দিতে হয়। প্রধানত বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে যে শিশুরা বাস করে তাদের টিকা দেওয়া হয়নি।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ইমুনাইজেশন, ভ্যাক্সিন এবং বায়োলজিকালস সংস্থার পরিচালক জেমরি ওকোয়া বেলি বলেন, শিশুদের টিকাদানের হার যে কমছে তার পরিনাম মারাত্মক হবে।

সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে এমন রোগে প্রতি বছর সাড়ে দশ লক্ষ শিশু অকালে মারা যায়।

তার মতে, এই মৃত্যু রোধের একটি উপায় হচ্ছে অন্যন্যা স্থাস্থ্য পরিসেবার সংগে টিকাদান কর্মসূচিকে যুক্ত করা।

ওকোয়া বেলি বলেন, “আমাদের তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে যে ৪০ শতাংশ শিশু যখন নানা কারনে স্বাস্থ্য ক্লিনিকে যায় তখন তাদের টিকা দেওয়া হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয় না। যে শিশুদের টিকা দেওয়া নাই তাদের টিকা দিতে হবে। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা টিকাদানের হার বাড়াতে পারি।

তিনি বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকা দানের সংখ্যা কমার কারণ হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিসেবার মাধ্যমে টিকা দেওয়ার সুযোগ কম থাকা, পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী না থাকা এবং ভ্যাক্সিন বা টিকা সরবরাহ অপর্যাপ্ত থাকা এবং নিরাপত্তারা অভাব।”

জতিসংঘের সংস্থাটি জানিয়েছে ৩৫ দেশে তাদের যে টিকাদান কার্যক্রম রয়েছে তাতে মাত্র ৮০ শতাংশ শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। ভারত পাকিস্তান নাইজেরিয়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, ইথিওপিয়া এবং আফগানিস্তানে এই সংখ্যা সবচাইতে কম।

ডাঃ ওকোয়া বেলি ভয়েস অব আমেরিকাকে জানিয়েছেন যে ঐ সব দেশের কর্মকর্তারা জানেন যে টিকাদন কর্মসূচী উন্নত করার জন্য তাদের আরো চেষ্টা করতে হবে এবং তাদের কে আরো কাজও করতে হবে। ওকোয়া বেলি বললেন “আমি ভারতের কথাই উল্লেখ করছি তারা যেভাবে দেশকে পোলিও মুক্ত করেছে সেই একই ভাবে সম্পদ ও এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে এখন নিয়মকরে টিকাদান কর্মসূচীকেও সমর্থন করতে হবে।”

ইতিমধ্যেই আমরা কিছু উন্নতি দেখতে পাচ্ছি। তবে ২০১৪ সালের তথ্য উপাত্ত এখনো পাইনি। আমরা পাকিস্তানেও আমরা আছি এবং সেখানে আমাদের ভাল পরিকল্পনা রয়েছে এবং নাইজেরিয়া যে ভাল করছে তারা প্রমান আমরা পেয়েছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্যের মতে শিশুদের টিকা দেওয়া হলে বছরে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ লক্ষ শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব এবং আরো লক্ষ্ লক্ষ শিশুকে অসুস্থতা এবং বিকলাংগ হবার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

তাহিরা কিবরিয়া

XS
SM
MD
LG