অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শীতে শিশুর নিউমোনিয়া থেকে সতর্ক থাকুন।


শীত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে শীতজনিত রোগ বালাই। আর শীতে শিশুরা ভোগে নানান সমস্যায়। এসময় ঠান্ডা লেগে শিশুর সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কিওলাইটিস এমনকি নিউমোনিয়া হতে পারে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো নিউমোনিয়া। আর শীতকালেই এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

আইসিডিডিআর’বির ঢাকা হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের ক্লিনিক্যাল প্রধান ও গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ড. মো. জুবায়ের চিশতি শিশুর নিউমোনিয়া প্রসঙ্গে বলেন, পুষ্টিহীন শিশুর নিউমোনিয়ার হওয়ার আশংকা বেশি থাকে। আর একইসঙ্গে শিশুর যদি পুষ্টিহীনতা ও নিউমোনিয়া থাকে তাহলে সেই শিশুর মৃত্যুর আশংকা শুধু নিউমোনিয়া আক্রান্তদের চেয়ে ১৫ গুন বেশি থাকে। সেজন্য পুষ্টিহীনতাকে বাংলাদেশের জন্য একটি অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করে আমরা গত কয়েক দশক ধরে তা প্রতিরোধে কাজ করছি।

বাইরের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ঘরের অভ্যন্তরের দূষণ, যেমন: হারিকেন জ্বালানো, খড়ি দিয়ে রান্না, মশার কয়েল ও ধূমপানের মতো বিষয়গুলো শিশুর নিউমোনিয়া ঝুকিঁ বাড়িয়ে দেয়। হাত না ধুয়ে খাওয়ার অভ্যাসও ডায়রিয়ার পাশাপাশি নিউমোনিয়ার জন্য ঝুকিঁপূর্ণ। এছাড়া গবেষণায় নতুন করে পাওয়া গেছে, শিশুর ডায়রিয়া হলেও তার নিউমোনিয়া ঝুকিঁ বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে জুবায়ের চিশতি বলেন, পাতলা পায়খানা নিয়ে আসা রোগীর নিউমোনিয়া ঝুকিঁ বেশি। আবার শুধু নিউমোনিয়ায় বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর তুলনায় একইসঙ্গে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর আশংকাও কয়েক গুন বেশি।

নিউমোনিয়ায় পাচঁ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার বেশি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, একমাস থেকে পাচঁ বছর বয়সী শিশুর নিউমোনিয়া দুটি জীবানু থেকে হয়। বাংলাদেশ সরকার গত চার/পাচঁ বছর ধরে শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সব শিশু এই ভ্যাকসিন পেলে আমরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনতে পারবো।

নিউমোনিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা গেলে ১৫ দিনের চিকিৎসায়ই শিশু ভালো হয়ে যায়। শীতে এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শিশুকে গরম কাপড় পরাতে হবে। গোসলে ব্যবহার করতে হবে হালকা গরম পানি। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিশুর ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর সর্দি, কাশিকেও অবহেলা করা যাবে না। একইসঙ্গে যে কোন অসুস্থতার ক্ষেত্রে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আঙ্গুর নাহার মন্টি

ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

XS
SM
MD
LG