অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে চাই ব্যাপক জনসচেতনতা।


A child suffering from Thalassaemia undergoes a blood transfusion process at Pakistan Institute of Medical Sciences (PIMS) in Islamabad.

A child suffering from Thalassaemia undergoes a blood transfusion process at Pakistan Institute of Medical Sciences (PIMS) in Islamabad.

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে চাই ব্যাপক জনসচেতনতা

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। বাবা-মায়ের কাছ থেকে এই রোগ সন্তানের দেহে প্রবেশ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ ভাগ মানুষই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। বর্তমানে এদেশে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে ভুগছে এবং প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ৮ মে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও পালন করছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সালাহউদ্দীন শাহ্ এর সঙ্গে। তিনি সমন্বিত জাতীয় থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে সঠিক সংখ্যা বের করার সুপারিশ করে বলেন, যদি সে থ্যালাসেমিয়ার বাহক হয় তাহলে জন্মের পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। সে যখন আস্তে আস্তে বড় হবে তখন তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। মেয়েদের গর্ভাবস্থায় এবং ছেলেদের কোন ইনফেকশন হলে এই হিমোগ্লোবিন বেশি মাত্রা কমে যায়। তখন রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগটি ধরা পড়ে।

রোগটির উপসর্গ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আবার অনেকের গায়ের রঙ হলদেটে হয়ে যায়। স্বাভাবিক শিশুর মতো কর্মচঞ্চল থাকে না। নিষ্প্রিহ ও খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়। সঠিক চিকিৎসা না করলে শিশুর হাড়ের পরিবর্তন, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, মাথা ছোট হতে থাকে।

থ্যালাসেমিয়া রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রোগটি সম্পর্কে জানা থাকলে অবশ্যই রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছেই প্রথমে যেতে হবে। তাহলে রোগটি দ্রুত নির্ণয় হবে ও রোগী সঠিক চিকিৎসা পাবে। সত্যিকার অর্থে থ্যালাসেমিয়া রোগের স্থায়ী চিকিৎসা নেই। এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ‘ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ ও জীন থ্যারাপি যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল।

থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির উপর জোর দিয়ে ডাঃ সালাহউদ্দীন শাহ্ বলেন, বিয়ের আগে বর ও কনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে তারা কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা রোগী কিনা। যদি দুজনেই বাহক বা একজন বাহক অন্যজন রোগী হয় তাহলে তাদের বিয়েতে নিরুৎসাহিত করতে হবে। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিয়ের ব্যাপারেও কাউন্সিলিং করতে হবে। তাহলে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করতে পারবো।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঔষধ এবং রক্ত নিতে হয় যা আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই রোগটি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি আমার, আপনার, সবার দায়িত্ব।

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

XS
SM
MD
LG