অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাত বিষয়ে একটি আলোচনাচক্র


যেমনটি আমরা বিশ্ব সংবাদেই শুনেছি একটু আগেই যে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি বিশেষত হামাসের মধ্যে সংঘাত এক নাগাড়ে আজ শুক্রবার চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে।হামাস যেমন ইসরাইলী ভূখন্ডে রকেট আক্রমণ চালাচ্ছে অন্য দিকে ঠিক তেমনি ইসরাইলীরা ও হামাস শাসিত গাজা ভূখন্ডে বিমান আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। ইসরাইলী যুদ্ধ-বিমানগুলো এ পর্যন্ত প্রায় শ চারেক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে।এতে বহুলোকের প্রাণহানি ঘটেছে। গাজায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০০ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু ও মহিলারা ও রয়েছেন।

লক্ষ্য করার বিষয় এখানে যে এই ধরণের আক্রমণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে উভয় পক্ষই। হামাসরা তো বরাবরই ইসরাইলের অবস্থান এবং বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে সুতরাং তারা তাদের রকেট হামলার পেছনে এক ধরণের যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে।

ইসরাইলীরা এই ধরণের আক্রমণে যৌক্তিকতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।ইসরাইলী সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র পিটার লেরনার যেমনটি বলছেন যে এই আক্রমণ অভিযানের লক্স্য হচ্ছে ফিলিস্তিনি রকেট হামলা বন্ধ করতে ফিলিস্তিনিদের বাধ্য করা। যেমনটি লেরনার বলছেন যে মূলত আমরা হামাসের ওপর আঘাত হানছি।তিনি বলেন যে তারা দশ লক্ষ ইসরাইলীকে তাদের রকেট হামলার মুখে জিম্মি করে রাখতে পারেন না।

তবে হামাস মুল লক্ষ্য হলেও ইসরাইলের এ জাতীয় হামলার শিকার হচ্ছে অসামরিক ফিলিস্তিনি জনগণ। যেমন এক ঘটনায় গতকালই আটজনের এক পরিবারের সকলেই প্রাণ হারায় যখন তাদের বাড়ির ওপর ইসরাইলী বিমান বোমা বর্ষণ করে ।আবার গাজার সমুদ্রতটে একটি ক্যাফেতে দু দিন আগে ইসরাইলী বিমান হামলার ফলে , যারা বিশ্বকাপ দেখছিলেন , তারা প্রাণ হারান।এদের সকলেই যে হামাস সদস্য বা হামাস সমর্থক সে কথা বোধ হয় বলা যাবে না।

কিন্তু হামাস ও যে আবার চুপ করে বসে আছে , তা নয়।তারা তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে তাদের রকেট আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে যদি ও ইসরাইলের Iron Dome নামের , ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা বেশির ভাগ রকেট আক্রমণকে প্রতিহত করছে।এ সত্বেও হামাস ও এ রকম সঙ্কল্প প্রকাশ করেছে যে তারা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে ।হামাসের একজন মুখপাত্র মুশিল আল মিসরি বলছেন যে তাদের দল লড়াই চালিয়ে যাবে এবং স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ পথে ইসরাইলের ওপর আঘাত হানবে।

অন্যান্য দিনের মতো আজ ও গাজা ভুখন্ড থেকে ইসরাইলে রকেট হামলঅ চালানো হয়। একটি রকেট দক্ষিণ ইসরাইলের আশদোদ শহরের একটি পেট্রল পাম্পে আঘাত হানলে , সেখানে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত একজন ঐ বিস্ফোরণে প্রাণ হারায়। আবার অন্য আরেকটি ঘটনায় উত্তর ইসরাইলে লেবাননের দক্ষিনাঞ্চল থেকে রকেট নিক্ষেপ করা হয় , তবে ঐ রকেটটি কে বা কারা নিক্ষেপ করেছিলো সেটা পরিস্কার বোঝা যায়নি।

এই সব আক্রমণে বহু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশেষত গাজা ভুখন্ডে ইসরাইলের বিমান হামলায় প্রাণহানি এবং ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।এর কারণ কি ?

একটা কারণ বোধ হয় , যেটা আপনি বলছিলেন একটু আগে , ইসরাইলের Iron Dome নামের , ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা।এই প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি অনেক কম , ফিলিস্তিনিদের তুলনায় । ঠিক তার বিপরীতে এ রকম অভিযোগ ও রয়েছে যে ইসরাইলের বিমান হামলা , লক্ষবস্তু স্থির করে যে চালানো হচ্ছে , তা হয়ত নয়।হামাস শাসিত এলাকায় সাধারণ ভাবে এই বিমান হামলায় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনির প্রাণ হানি ঘটছে।তা ছাড়া ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে বিমান হামলা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এরই মধ্যে ইসরাইলী এই আক্রমণকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন । প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে অস্ত্র বিরতির কথা বলেছেন অন্যদিকে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতেনইয়াহু তাঁর দেশের সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন যে অস্ত্রবিরতির কথা তাঁরা ভাবছেন না।তা হলে পরিস্থিতিটা ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে ?

এই মুহুর্তে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শহীদুজ্জামান । আসুন তাঁর কাছেই শোনা যাক এই অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির স্বরূপ

ধন্যবাদ আপনাকে ।আসলে অধ্যাপক শহীদুজ্জামান , যে কথা কথা বলছেন , তাতে মনে হচ্ছে যে এই সংঘর্ষ বেশ জটিল এবং বিশেষত সিরিয়া ও ইরাকে যে একটা অরাজক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে , তার সুযোগ নিতে চাইছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।কিন্তু আন্তর্জাতিক ভাবে এ ব্যাপারে উদ্বেগ উৎকন্ঠা রয়েছে বড় রকমের।যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া উভয়ই সেখানে সহিংসতা বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘের মহসচিব বান কী মুন তো পরিস্কার করেই বলেছেন :

যেমনটি তিনি বলছেন যে , ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠিসহ , সহল পক্ষকেই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে ।ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগের যৌক্তিকতা আছে কিন্তু বান কী মুন বলেন যে ইসরাইলী অভিযানের কারণে তিনি বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যু ও জখম হওয়ার ঘটনায় ও উদ্বিগ্ন।

আসল কথা হচ্ছে এই হিংসা হানাহানি বন্ধ হওয়া দরকার ।এবার এই ঘটনার উৎপত্তি , আনিস আপনার মনে আছে , তিন জন ইসরাইলী কিশোরের অপহরণ ও মৃত্যু এবং একজন ফিলিস্তিনি কিশোরেরও অপহরণ ও মৃত্যু ।পাল্টাপাল্টি দোষারোপ এবং তার পর পুরোপুরি লড়াই।

ঠিকই বলেছেন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সংযত আচরণই কেবল মাত্র , নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যে শান্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল , যে শান্তির জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন , তার বাস্তব রূপায়নই সেখানকার জনগণের জন্যে সত্যিকার সুরক্ষা নিয়ে আসতে পারে।

XS
SM
MD
LG