অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

১২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অষ্ট্রেলিয়ায় শেষ হল এইডস সম্মেলন


সারা বিশ্বের ২ হাজার বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে ১৯৮৫ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম এইডস সম্মেলন। ২০ বছর পর এবার ২০১৪ সালে অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের এইডস সম্মেলনে অংশ নেন ১২ হাজার বিজ্ঞানী, এই্ডস কর্মী এবং এইডস ভাইরাস আক্রান্ত মানুষেরা। ২০ বছরে এইডসকে নিরেট বিজ্ঞান থেকে সামাজিক বিষয়ে পরিণত করাসহ নানা অগ্রগতিও সাধিত হয়েছে।

এইডস সম্মেলনে অংশ নেয়া ১২ হাজার মানুষের অর্জন কম নয়। মাত্র দুই দশকে ভয়ংকর এই রোগটি যেনো মৃত্যদন্ডাদেশ থেকে জীবনপ্রাপ্তির ন্যায়। বিশ্বব্যাপী নতুন করে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা এখন সর্বনিম্নে। একই পরিসংখ্যান এইডস সংক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনায়ও।

দুটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। একটি হচ্ছে আবর্তন: এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বিশ্বের সকল বিজ্ঞানীকে একত্রিত করেছে; রোগটির জন্য শক্তিশালি প্রতিষেধক আবিস্কারে। অপরটি হচ্ছে সামাজিক রূপান্তর: যার মাধ্যমে আমরা যৌনতা, লিঙ্গ, অসমতা, সংঘর্ষ ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ন বিষয়সমূহ নিয়ে কথা বলতে পেরেছি।

এই বছরের সম্মেলনে চিকিৎসা সংক্রান্ত উন্নয়ন নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে ছিল রোগ নির্নয়, রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ। একটি পিল নিয়ে আলোচনা হয়, যা এইচআইভি সংক্রমন রোধ করতে পারে এমন সম্ভাবনা উজ্জল।

এবারকার সম্মেলনে বিজ্ঞান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা প্রেপ Pre-exposure Prophylaxis, or PrEP নামের একধরণের প্রযুক্তি যার মাধ্যমে ট্রুভাদা নামের পিল পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ সফলতা পাওয়া গেছে।

প্রেপ কিভাবে কাজ করে তার ব্যাখ্যা দেন ট্রুভাদার আবিস্কারক ড. জেমস।

“প্রেপ মূলত এইচঅfইভি সংক্রমন রোধকল্পে নতুন এক কৌশল। এতে এইচআইভি চিকিৎসার জন্য যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয় সেগুোলোই এইচআইভি আক্রান্তদেরকে আরো নিখুত করে ভালো করে ব্যাবহার করা শেখানো”।

সম্মেলন শুরুর আগের দিন পূর্ব ইউক্রেনে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় এইইডস সম্মেলনের উদ্দেশ্যে আসা ৬ শীর্ষ বিজ্ঞানী নিহত হন। সম্মেলনে সেই বিযোগাত্মক দুর্ঘটনার প্রভাব পড়ে। নিহতদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনাও নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন।

ইন্টারন্যাশনাল এইডস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া বারে-সিনোসি Francoise Barre-Sinoussi বলেন: “আমি আপনাদের একথা বলতে চাই যে এই সম্মেলন ভালো সময়ে হচ্ছে। আমাদের প্রিয় সহকর্মী বন্ধুদের হারানোর ব্যাথা প্রকাশ করা কঠিন। আমরা নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি আর তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই”।

সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনে যুক্তরাস্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনংটনসহ বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যাক্তি কথা বলেন। ক্লিনটন বলেন, “সম্মেলনের ২০তম বার্ষিকীতে আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমাদের নানা অগ্রগতি নিয়ে কথা বলছি। এইডস নিরসনে মানুষ এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে এইডসমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অামরা সকলেই আরো শক্তভাবে তা করে যাবো”।

দারিদ্র বিরোধী প্রচারনার অ্রগ্রনায়ক বব গেল্ডফ সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে মূল বক্তার বক্তব্যে বলেন: “আমি যখন আফ্রিকায় এবং অঅমি যখন আক্রান্তদের সঙ্গে যাদের সঙ্গে আপনারা গত ৩০ বছর কাজ করছেন আমি তাদের নিস্পাপ চেহারায় মধ্যে দেখতে পাই অসমতার পর্দা। তবে আমাদের এই সেবা আর পার্থক্যহীনতা তাদেরকে টানে”।

এই ভয়বহ রোগে ১৯৮০ সালের পর থেকে ৩ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ মারা গেছে এবং ৩ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ এর জীবানু বহন করে বেঁচে আছে। তবে বিশ্বকে পরিবর্তিত করেছে। মানবতাকে ঐক্যবদ্ধ করেছে এইডসের কবল থেকে পৃথিবীকে পুরোপুরি মুক্ত করার প্রয়াসে। একজন এইডস কর্মী বললেন এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন আরো বোঝাপড়া আরো সমন্বিত প্রচেষ্টা।

XS
SM
MD
LG