অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রসঙ্গ

  • আনিস আহমেদ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদ যে ভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে , বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাতে এই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশগুলো যে একত্রিত হচ্ছে সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের Public Diplomacy ও Public Affairs বিষয়ক Undersecretary Richard Stengel বলেন খানিকটা পরিহাসের মতো শোনালেও এ কথা সত্যি যে সন্ত্রাসবাদ শান্তিপ্রিয় মানুষকে বরঞ্চ একতা বদ্ধ করেছে। ৯/১১ ‘র ঘটনার পর বিশ্বের লোকজন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়েছে এবং এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্র কি ভাবে এই সন্ত্রাসবাদের নিমর্ম শিকারে পরিণত হয়েছে। আর তখন থেকেই বরঞ্চ আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মৈত্রী বৃদ্ধি পেয়ে এসছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা Gulf Cooperation Council অর্থাৎ জি. সি. সি ‘র তরফ থেকে কি ধরণের সহযোগিতা পাচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে Richard Stengel বলেন যে জি.সি.সি আগেকার তূলনায় অনেক বেশি করে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যেমন নিজেদের মধ্যে তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও । তিনি মনে করেন এর ফলে জিসিসি’র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে আরও শক্তিশালী। ISIL ‘এর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র আন্ডার সেক্রেটারী বলেন যে ISIL বা ISIS কে নানান উপায়ে মোকাবিলা করা হচ্ছে। সামরিক দিক থেকে আমরা তাদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করেছি। তিনি বলেন যে আরব সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিত ভাবেই যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী শক্তির মোকাবিলা করছে। তিনি বলেন আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র হচ্ছে , তথ্যের ক্ষেত্র যার পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর নিজের। এক বছর আগে ISIL বা ISIS বা দায়েশের উত্থানের পর এখানে আরও অনেক উপাদান এসছে । আরব দেশগুলো এখন নিজেদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করছে, এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব , মিশর তাছাড়া বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যে সোয়াব সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে সে প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করেন । আমরা সোয়াব কেন্দ্র চালু করেছি। সেটা অন্য দেশগুলোকে এ ধরণের কেন্দ্র স্থাপনে অনুপ্রাণিত করবে। এই সোয়াব সেন্টারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে Mr. Stengel বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রের লক্ষ্য হচ্ছে ISIL বা ISIS বা দায়েশের সামাজিক মাধ্যমের বিপরীতে , এমন বার্তা প্রস্তুত করা যা জোটের শরিকদের উৎসাহিত করবে। তা ছাড়া ISIS বা দায়েশরা যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে তার বিপরীতে এর কাজ হবে ইতিবাচক কথা উপস্থাপন করা। তিনি আরও বলেন সোয়াব সেন্টারের আরেকটি কাজ হলো বিদেশি যোদ্ধাদের ঐ সব সংগঠনে এযাগ দেওয়া বন্ধ করা। তাদের এই বার্তা দেওয়া যে এই কথিত খেলাফত ভূমি কোন আদর্শ স্থান নয় মোটেই। দায়েশ এক ধরণের মিথ্যে কাহিনী সৃষ্টি করছে । এই সোয়াব সেন্টার হচ্ছে ব্যাপক প্রচেষ্টা্রই অংশ। তিনি আরও বলেন যে অআমরা লক্ষ্য স্থির করেই এগুচ্ছি এবং গোটা মুসলিম উম্মাহকে দায়েশের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা নিচ্ছি। পররাষ্ট্র আন্ডার সেক্রেটারীর কাছে জানতে চাওয়া হয় আমরা কি সন্ত্রাসের ছায়ার মধ্যে বছর নয়, দশকের পর দশক বসবাস করবো। তিনি বলেন হ্যাঁ অনেকটাই তাই । বিষয়টা দীর্ঘ মেয়াদি। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বলেছেন যে এটা দু একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এমনটি ভাববার কোন কারণ নেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে পারে।তবে সব ধরণের সন্ত্রাস যে নির্মূল করা সম্ভব হবে সেটা বলা বাস্তবসম্মত নয়। তবে চলমান হুমকি হিসেবে এরা থাকবে না , এরই মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। তিনি সন্ত্রাসবাদের পরাজয় সম্পর্কে আশাবাদ পোষণ করেন।


XS
SM
MD
LG