অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চীন এবং ভারতের কারনে চাপের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি


চীন এবং ভারতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার কারনে চাপের মুখে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনোমিক ফোরাম এ্যাপেকের বৈঠকে বানিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন নেতৃবৃন্দ। জাকার্তা থেকে কেট ল্যাম্বের রিপোর্ট: পরিবেশন করছেন সেলিম হোসেন:

এ্যাপেক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে করা যৌথ বিবৃতিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ দীর্ঘমেয়াদী ও যৌক্তিক নীতিমালার ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন। নেতৃবৃন্দ বিশ্ব প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল উল্লেখ করে জাতিসমূহকে শিল্প প্রতিযোগিতা সংরক্ষনের নীতিমালা পরিহার করার আহবান জানান।

এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন এবং ভারতের প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার আভাস পাওয়া যায় এশিয়ান উন্নয়ন ব্যংকের আঞ্চলিক পূর্বাভাসে, যাতে ২০১৩ সালের প্রবৃদ্ধির রেকর্ড দেখানো হয় ৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বাম্বাং ইয়ুধোইয়োনো এ্যাপেকে অংশগ্রহণকারীদেরকে বলেন বিশ্বঅর্থনীতিতে স্থিতি রক্ষার জন্য পাস্পারিক যোগাযোগ জরুরী।

“একে অন্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আমাদের সকলের জন্য সুফল বয়ে আনবে, বিশেষ করে যখন বিশ্ব অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি চাঙ্গা হয়ে ওঠেনি”।

এই সপ্তাহের বৈঠকে কিছু কিছু রাষ্ট্রসমূহ আশা করেছিলেন ১২-জাতি বানিজ্য জোট ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশীপ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদার বিষয়টির অগ্রগতি হয়নি কারন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুপস্থিতির কারনে। চীন ব্যাতিরেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের বানিজ্য জোটে বার্ষিক অর্থণৈতিক আকৃতি ধরা হয়েছে ২৮ লক্ষ কোটি ডলার।

চীনের প্রেসিডেন্ট ঝি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরী বলেছেন তারা দুজনই বিনিয়োগ ও বানিজ্য উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করবেন। এশিয়ান দেশসমূহের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য অংশীদারিত্বে সহযোগিতার জন্য ঐসব দেশের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা কামনা করেন জন কেরী।

যে মুহুর্তে বানিজ্য অংশীদারিত্বের কথা আরৈাচনা করছেন নেতৃবৃন্দ তখন বিশ্বঅর্থনৈতিক অস্থরতায় সমস্যায়পড়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো। প্রেসিডেন্ট ইয়োধোইয়োনো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি টেকসই করার লক্ষে কাজ করার আহবানজানান।

“সীমিত সম্পদের কথা মাথায় রেখে আমরা খাদ্য, জ্বালানী ও পানির নিরাপত্তার ব্যপারে আঞ্চলিক সহযোগিতার চুক্তিত্বে আবদ্ধ হয়েছি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। এই বালি সম্মেলনে আমরা এসব সমস্যা সমাধানে যথাসাধ্য সচেষ্ট হয়েছি”।

এ্যাপেক সম্মেলনের শেষে বহু নেতা বুধবার ব্রুনাইতে অনুষ্ঠিতব্য পূর্ব এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানে এ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইষ্ট এশিয়ান নেশনস এ্যাসোসিয়েশনস, ২০১৫ সাল নাগাদ কার্যক্ষম হওয়ার লক্ষ্যে গঠিত আঞ্চলিক জোট আশিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির ওপর জোর দেয়া হবে।
XS
SM
MD
LG