অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হ্যানসেন ক্লার্ক যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে প্রথম বাংলাদেশী আমেরিকান সদস্য নির্বাচিত হলেন

  • শাগুফতা কুইন

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইলেক্ট হ্যানসেন ক্লার্ক

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইলেক্ট হ্যানসেন ক্লার্ক

মিশিগানের বাংলাদেশী আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটি মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফলাফলে অত্যন্ত আনন্দিত। মিশিগানের ত্রয়োদশ কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রাটিক দলের প্রার্থী হ্যানসেন ক্লার্ক, রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাউলারকে পরাজিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রথম বাংলাদেশী আমেরিকান সদস্য নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশী আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি, ব্যাপাক এর চেয়ারম্যান এহাসান তাকবিম খুবই আনন্দিত। তিনি বলেন “আমার খুবই ভাল লাগছে কারণ এই প্রথম একজন বাংলাদেশী আমেরিকান কংগ্রেসে গেলেন”।

বাংলাদেশী আমেরিকান ফায়সাল সাইদ মিশিগানে গাড়ি নির্মান কম্পানি জেনেরাল মোটোর্সে একজন প্রকৌশলী। তিনি বলেন “আমরা এই দিনটার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এটা আমাদের নতুন দিগন্তের সূচনা করলো। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য এটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো”।

হ্যানসেন ক্লার্ক এর বাবা মোজাফ্ফর আলি হাশেম ছিলেন একজন বাংলাদেশী এবং ১৯৩০ এর দশকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি মারা যান যখন হ্যানসেনের বয়স মাত্র আট। তারপর তার মা একাই তাকে মানূষ করেন। হ্যানসেনের মা আফ্রিকান আমেরিকান এবং তিনি মারা যান যখন হ্যানসেনের বয়স ১৯।

সেনেটর ক্লার্ক মিশিগান রাজ্যের নিম্ন সভা হাউস অফ রেপ্রিসেনটেটিভসে তিন মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করেন এবং উচ্চ সভা সেনেটে চার বছরের দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইলেক্ট হ্যানসেন ক্লার্ক

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইলেক্ট হ্যানসেন ক্লার্ক

মিশিগানে অর্থনীতি একটা বড় ইস্যু। ওই রাজ্যে গাড়ি নির্মান শিল্প দীর্ঘ দিন ধরে বিপর্যস্ত। বেকারত্বের হার সেখানে প্রায় ১৩ শতাংশ। ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে, সেনেটর ক্লার্ক বলেন ভোটাররা পরিবর্তন চাইছিলেন। তিনি বলেন, “ভোটাররা পরিবর্তন চান। তারা এমন একজনকে চেয়েছিলেন যিনি আমাদের এই অঞ্চল যেখানে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে সেখানে তাদের হয়ে কাজ করবেন”।

মিশিগানের ডিয়ারবর্ন ও অন্যান্য এলাকায় বিপুল সংখ্যক মুসলমান জনগোষ্ঠির বাস। হ্যানসেন ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহন করেন। তিনি অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে খুবই সচেতন ও তাদের সমস্যা উপলব্ধি করেন।

তিনি বলেন “আমার বাবা ছিলেন মুসলমান – আমি ছেলে বেলায় মুসলমান হিসেবেই বড় হয়েছি। আমি এসব বিষয়ে খুবই স্পর্শকাতর। আমি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে আরও সচেতন করে তোলার ব্যাপারকে অগ্রাধিকার দেবো – যে, লোকজনের নাম তাদের চেহারা বিশেষ করে তাদের ধর্মের ভিত্তিতে তাদের সম্পর্কে একটা ধারণা করে নেওয়া উচিত্ নয়। বরং আমাদের দেশকে সুরক্ষা করার জন্য সেই সব সঠিক তথ্য ভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করা উচিত্”।

মিস্টার ক্লার্ক বলেন তিনি আইন বলবত্ সংস্থাগুলোর সঙ্গে এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন লোকজনকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য যে পুর্ব ধারণা অনুসারে লোকজন সম্পর্কে চিন্তা না করে সব জাতির সব ধর্মের লোকজনকে গ্রহণ করতে, কারন এই দেশ – সেই নীতিমালার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন “কংগ্রেসের একজন সদস্য হিসেবে আমি সংবিধানের আদর্শগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করবো – কারণ আমি মনে করি আমি যে পরিবেশ থেকে এসেছি তাতে সেই কাজ করার জন্য আমি সবচাইতে উপযুক্ত”।

হ্যানসেন তার বাবাকে স্মরণ করেন শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সঙ্গে। তিনি বলেন “আমার বাবা আমার জীবনে একটা বড় প্রভাব রেখেছেন যদিও তিনি মারা গেছেন আমার বয়স যখন আট। তিনি সব সময় আমার সঙ্গে ছিলেন, এবং তার সঙ্গে ও তার সংস্কৃতির সঙ্গে আমার একটা গভীর সংযোগ রয়েছে। বংশগতভাবে আমি অর্ধেকই বাংলাদেশী। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে আমার কমিউনিটটির প্রতিনিধিত্ব করতে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি উপলব্ধি করি যে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্বের বিষয়ে আমি তুলে ধরতে পারবো সেটা বানিজ্যের ক্ষেত্রে হোক অথবা বিশ্বব্যাপি গনতন্ত্রের প্রসার ঘটানো বা শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য”।

কংগ্রেসম্যান ইলেক্ট ক্লার্ক ২০০৭ সালের শেষের দিকে যখন বাংলাদেশে যান তখন তিনি সে দেশের অন্তর্বর্তি সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষ্যাত্ করেন। তিনি বলেন – বানিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।তিনি বলেন কংগ্রেসের সদ্স্য হিসেবে তার এ ক্ষেত্রে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও সিলেটের বিয়ানীবাজারে তিনি যে গিয়েছিলেন সেটা তার উপর গভীর রেখাপাত করেছে। তিনি বলেন “আমার জন্য এটা একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি একমাত্র সন্তান, আমার কোন ভাই বোন ছিল না। আমার বাবা মারা গেছেন আমার বয়স যখন আট, আমার মা মারা গেছেন আমার বয়স যখন ১৯। আমি কয়েকদিন আগে বিয়ে করেছি এবং তার আগে পর্যন্ত আমার আত্নীয় স্বজনের সঙ্গে তেমন কোন সংযোগ ছিল না। বাংলাদেশে যে আমার এত বড় পরিবার রয়েছে --- আমি সত্যি তাদের ভালবাসা পেয়ে অভিভূত হই”।

বাংলাদেশে যে তরুণদের সঙ্গে তার সাক্ষাত্ হয়েছে তাদের সঙ্গে আলাপ করে তিনি মুগ্ধ হন। তিনি বলেন বাংলাদেশে তিনি অনেক তরুণ কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন যারা বানিজ্য ও ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট হতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র একটা দৃঢ় শরীকানা স্থাপন করতে পারবে। তিনি মনে করেন তার দেশের জন্য এবং বৈশ্বিক বাজারের জন্য তা বড় একটা সূযোগ করে দেবে।

হ্যানসেন ক্লার্ক রাজনীতিক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছেন “তাঁর এলাকাকে রক্ষা করায় সাহায্য করার জন্য”। তিনি মনে করেন রাজনীতির মাধ্যমে সবচাইতে অর্থপূর্ণ ভাবে জনগনের কাছে তাদের দেওয়া করের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া যায় এবং তা তাদের সাহায্য করবে, তাদের মহল্লাকে সাহায্য করবে।

কংগ্রেসম্যান ইলেক্ট হ্যানসেন ক্লার্ক মনে করেন এখনও সেটাই তাঁর লক্ষ্য।

XS
SM
MD
LG