অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানের চীনমুখি হওয়া যুক্তরাস্ট্রের জন্যে কোন সমস্যা নয় : লিজা কার্টিস

  • আনিস আহমেদ

পাকিস্তানের চীনমুখি হওয়া যুক্তরাস্ট্রের জন্যে কোন সমস্যা নয় : লিজা কার্টিস

পাকিস্তানের চীনমুখি হওয়া যুক্তরাস্ট্রের জন্যে কোন সমস্যা নয় : লিজা কার্টিস

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি , বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। সফরের প্রাক্কালে তিনি চীনকে পরীক্ষিত একজন বন্ধু বলে উল্লেখ করেন ।পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বরাবরই রয়েছে । তবে এবারকার সফর একটা ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এসছে।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান অভিযান এবং ওসামা বিন লাদেনের হত্যার পর এই দু দেশের মধ্যে সম্পর্কটা খানিকটা টান টান হয়েছে। প্রথম দিকে দু দেশের মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ চলছিল।

তবে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর জন কেরি , যিনি পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিভাগের সেনেট কমিটির চেয়ারম্যানও , তিনি পাকিস্তান সফর কালে দু দেশের সম্পর্ক জোরালো করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন , যদিও খোদ যুক্তরাস্ট্রের মিডিয়াতে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর ঠিক এমনি সময়ে গিলানি গেলেন চীনে।

তার এই চীন সফর নিয়েই কথা বলছিলাম হেরিটেজ ফাউন্ডেশানের সিনিয়র ফেলো ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক লিজা কার্টিস বলছেন যে মনে হচ্ছে পাকিস্তান এ কথাটা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও তার কাছে অন্যান্য বিকল্প আছে পাকিস্তান এই ব্যাপারটি বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করেছে , বলতে চাইছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি পাকিস্তানের শর্ত মেনে সম্পর্ক রাখতে না চায় , তা হলে সে চীনের শরনাপ্ন্ন হতেই পারে।

তবে তিনি এ ও মনে করেন পাকিস্তানের এই উদ্যোগ অনেকটা নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো । এর অনেকগুলো কারণ আছে , যেমন লিসা কার্টিস বলছেন , প্রথমত পাকিস্তার আর চীনের মধ্যেতো আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে পারমানবিক প্রযুক্তি , সামরিক সহযোগিতা পেয়েছে। সুতরাং ঠিক এই মুহুর্তে পাকিস্তানের জন্যে চীনের তেমন কিছু করার নেই।

আর দ্বিতীয়ত , তিনি বলেন এই ধারণা যে পাকিস্তানের যুক্তরাস্ট্রের কোন সাহায্যের প্রয়োজন নেই , সেটা ও ভুল কারণ লিসা কার্টিস যেমনটি বলছেন যে চীন ঠিক কোথায় সাহায্য দেবে সে ব্যাপারে সে খুব সতর্ক এবং ঐ সহযোগিতার বিনিময়ে চীন কিছু পেতে চায়। অথচ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সাহায্য দেয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি উদার।

সে জন্যেই সম্ভবত পাকিস্তানকে এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে , যে সে কতখানি এই চীনের ব্যাপারটি নিয়ে খেলবে। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচলিত করা যাবে বলে লিজা মনে করেন না।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে চীন হচ্ছে সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের পর চীন , পাকিস্তানের সঙ্গে সংহতি ঘোষনা করে। এ নিয়ে আমাদের বিশ্লেষক লিজা কার্টিজকে প্রশ্ন করেছিলাম । তিনি বললেন যে এ নিয়ে তিনি মোটেই অবাক হননি যে চীন পাকিস্তানের প্রতি তার সমর্থন দেখাবে। তবে পাকিস্তান তো এটা কল্পনাই করতে পারে না যে যুক্তরাস্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে সে পুরোপুরি ভাবে চীনের ওপর নির্ভর করবে। কারণ পাকিস্তানের মতো অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জিত একটি দেশ , চীনের কাছ থেকে সে রকম সহায়তা পাবে না , যেমনটি পেয়ে থাকে যুক্তরাস্ট্রের কাছ থেকে।

তা হলে এখন এই প্রশ্ন উঠতেই পারে যে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের এই নতুন ঘনিষ্ঠতার পরিপ্রেক্ষিতে , যুক্তরাস্ট্রে এর কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে ? লিজা কার্টিস অবশ্য সে প্রসঙ্গে বলার আগে বলেন যে চীনের নিজস্ব জাতীয় ও আঞ্চলিক স্বার্থের কথাও ভুললে চলবে না।

তিনি বলেন যে চীন নিশ্চয়ই চাইবে না যে , উগ্রপন্থিরা তার দোর গোড়ায় ঘুরে বেড়াক কিংবা পারমানবিক শক্তিসম্পন্ন পাকিস্তানে তাদের অবস্থান নিক। চীন নিসন্দেহেই ঐ অঞ্চলে স্থিতিশীরতা চাইবে। উইঘর বিদ্রোহদের আল ক্বায়দা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এ রকম খবরে চীন এর আগেও হুশিয়ারি প্রকাশ করেছে এবং পাকিস্তানিদের ব্যবস্থা নিতে বলেছে। চীনা নাগরিকদের পাকিস্তানে পণবন্দীি ও করা হয়েছিল। সুতরাং উগ্রপন্থিদের দমনের ক্ষেত্রে চীনও যুক্তরাস্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে অভিন্ন।

আর এই বিশ্লেষণেই লিজা কার্টিস বোঝানোর চেষ্টা করেছেন , যে পাকিস্তান চীনের শরনাপন্ন হওয়ায় , যুক্তরাস্ট্রের চিন্তার কোন কারণ নেই কারণ এই সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে , দুটি দেশের চিন্তাধারা এক ও অভিন্ন।

XS
SM
MD
LG