অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আমার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশীদের সংগ্রামের কথা জানার - কংগ্রেসওম্যান ডনা এডওয়ার্ডস

  • আহসানুল হক
  • রোকেয়া হায়দার

আমার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশীদের সংগ্রামের কথা জানার - কংগ্রেসওম্যান ডনা এডওয়ার্ডস

আমার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশীদের সংগ্রামের কথা জানার - কংগ্রেসওম্যান ডনা এডওয়ার্ডস

মেরীল্যাণ্ড রাজ্যের কংগ্রেসওম্যান ডনা এডওয়ার্ডস এই রাজ্যে বসবাসকারী মুসলমানদের সংগঠন - মন্টগমারী কাউন্টি মুসলিম কাউন্সিলের আয়োজিত বার্ষিক ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন । তিনি অনুষ্ঠানে মুসলিম যুবসমাজকে অন্তর্ভূক্ত করার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের অবদানের প্রশংসা করেন ।

সেইসময় তার সাক্ষাতকার নেন আহসানুল হক । সাক্ষাতকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করছেন রোকেয়া হায়দার।

ডনা এডওয়ার্ডস মেরীল্যাণ্ড রাজ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে যোগ দেন । তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পারিবারিক হানাহানি, মানবাধিকার বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন ।

সমপ্রতি মন্টগমারী কাউন্টি মুসলিম কাউন্সিল – এম সি এম সির আয়োজিত ইফতার পার্টির মাঝে বাংলা বিভাগের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, ইসলাম তার কাছে কি অর্থ বহন করে ?

তিনি বললেন ঃ ‘আপনি জানেন আমি খৃষ্টান । কিন্তু মুসলিম সমাজের সঙ্গে আমার যোগাযোগের কারণে তাদের যে সব গুনাবলীর প্রশংসা করি তা হলো, তাদের ব্যাপকতা, গভীরতা, বৈচিত্র্য, এবং তাদের যে আধ্যাত্মিক ধারা রয়েছে । আমি তার গুরুত্ব উপলব্ধি করি । এবং আমি মনে করি প্রাচীন সব ধর্ম একই সূত্রে গাঁথা’ ।

যুক্তরাষ্ট্রে বহু মুসলমানের বাস । তারা সমাজে কি অবদান রাখছেন? এ কথার জবাবে কংগ্রেসওম্যান এডওয়ার্ডস বললেন ঃ

‘আমি যখন স্থানীয় পর্যায়ে এবং দেশব্যাপী মুসলিমদের কথা ভাবি, বিজ্ঞান, চিকিত্সা, শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করি, তারা কেবল এ সকল ক্ষেত্রেই নয়, তারা সমাজে একটা যোগসূত্র গড়ে তুলছে । তারা মানুষের চাহিদা, ক্ষুধা-অভাব সব কিছু পূরণের চেষ্টা করছে’ ।

মুসলমানরা আরও বেশী কি করতে পারে ? এ প্রশ্নের জবাব ছিল ঃ

‘তারা তাদের যোগ্যতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে – শিল্প, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সমাজ সেবায় অবদান রাখছেন । এর ফলে তাদের কাজের ব্যাপকতা প্রকাশ পায় । তারা নিজেদের মূল্যবোধ নিয়ে এসেছেন যা আমরা দেখতে পাচ্ছি’ ।

আমেরিকার মানুষ, এ দেশের মুল ধারার জনগন কি ভাবে ইসলামকে আরও ভালভাবে বুঝতে পারে, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারে ? এর জবাবে ডনা এডওয়ার্ডস বলেনঃ

‘আমি মনে করি আমি নিজে যেভাবে ইসলাম ধর্মকে জেনেছি, ইসলাম শান্তির ধর্ম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ধর্ম, আমি একজন খৃষ্টান হিসেবে একই মূল্যবোধে বিশ্বাস করি । অন্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা, মত বিনিময় করতে হবে, মুসলিম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে । মুসলিম, খৃষ্টান, ইহুদী সবাইকে একত্রিত হতে হবে, আজকের এই ইফতারের আয়োজনে নয়, সবাইকে মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’ ।

এ দেশে, এই এলাকায় বেশ অনেক বাংলাদেশীর বাস । তাদের সম্পর্কে কংগ্রেসওম্যান কি জানেন, কতখানি অবগত? এ বিষয়ে তিনি বলেন ঃ

‘কংগ্রেসে মানবাধিকার কমিশনের সদস্য হিসেবে আমরা সুযোগ হয়েছে, এদেশে এবং তাদের নিজেদের দেশে বাংলাদেশীদের সংগ্রামের কথা জানার সুযোগ হয়েছে । তাদের সমস্যার কথা জেনেছি । আর শুধু বাংলাদেশীই নয়, আমার কাজের সুযোগে আমি এখানে বাংলাদেশী, পকিস্তানী, আফগানী সবার সম্পর্কে ভালভাবে জানার একটা সুযোগ পেয়েছি’ ।

সামনেই ১১ই সেপ্টম্বরের দশম বার্ষিকী আসছে । এই মূহুর্তে তিনি কি চিন্তা ভাবনা করছেন? ডনা এডওয়ার্ডসের বক্তব্য ছিল ঃ

‘আমি যখন নাইন ইলেভেনের কথা মনে করি – আমাদের সবার ওপর এই ঘটনার যে প্রভাব পড়েছে, আমেরিকান হিসেবে এবং বিশ্ব সমাজের ওপর যে প্রভাব পড়েছে । আমরা কতদূর এগিযে এসেছি । তাই নয়, এখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় বিচারের জন্য, গোটা বিশ্বের মধ্যে একটা সমঝোতা সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের দেশের অভ্যন্তরেই কাজ করতে হবে তা নয়, বিশ্বব্যাপী একটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে’ ।

কংগ্রেসওম্যান ডনা এডওয়ার্ডস তার এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ ও সমঝোতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন ।

XS
SM
MD
LG