অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

  • সেহ্‌জীন চৌধূরী

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

সামার ক্যাম্প অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য মজার একটা ব্যাপার। তারা গরমকালে স্কুলের ছুটির সময় কিছুদিন বাড়ির বাইরে সুন্দর একটা জায়গায় থাকে। তাদের নতুন নতুন বন্ধুবান্ধব হয়। “আল-হিদায়া ২০১০” সেরকমই একটা ক্যাম্প। কিন্‌তু তার মূল উদ্দেশ্য অন্যান্য সামার ক্যাম্প থেকে অনেকটাই ভিন্ন।

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

বৃটেন, ইউরোপ, এমনকি আমেরিকা থেকেও তেরশ তরু্ণ-তরুণী ইংল্যান্ডের ওয়ারিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জড় হয়েছে। তাদের লক্ষ্য – চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গী বদলানো এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরো তৎপর হয়ে ওঠা। তারা সবাই এসেছে মুসলমান স্কলার এবং এই কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্তানের ডঃ মোহাম্মদ তাহির-উল-কাদরির কথা শোনার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের কিছু শেখানোর চেষ্টা করছি। আমরা তাদের সামনে প্রকৃত মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

এই বছরের শুরুতেই ডঃ মোহাম্মদ তাহির-উল-কাদরির সম্মন্ধে ব্রিটেনের পত্রপত্রিকায় বেশ কয়েকবার লেখা হয়েছিলো। তার কারন, তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ৬০০ পৃষ্ঠার একটি ফতোয়া জারি করেছিলেন। ব্রিটেনে কয়েকজন মুসলমান ধর্মীয় নেতা সন্ত্রাসবাদীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে। তাই ডঃ কাদরি ঠিক করেছেন তিনি তার ঠিক বিপরীত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

আল-হিদায়া ২০১০ - মধ্যপন্থী ইসলামের ছবি

তিনি তার শ্রোতাদের বলেন, তাদেরকে পশ্চিমা বিশ্বে থাকার ভালো দিকগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, এইসব পশ্চিমা দেশ, ব্রিটেন, ইউরোপ, আমেরিকা, যেখানেই আপনি থাকেন, আপনি সেসব অধিকার পান, দেশের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী সেসব স্বাধীনতা পান, যা অন্যান্য সমাজের মানুষ, যারা মুসলমান না, তারাও উপভোগ করতে পারে। কোন পার্থক্য নেই। তাই আমি কোন দ্বিধা না করে বলতে পারি আপনারা এসব দেশে অন্যান্য অনেক মুসলমান এবং আরব দেশের মানুষের চেয়ে বেশি অধিকার এবং স্বাধীনতা পান।

শ্রোতারা ডঃ কাদরির কথা মন দিয়ে শোনেন। তিন দিন ধরে অনেক ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়, অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়। এই কর্মসূচিগুলোতে যেসব ছেলেমেয়েরা অংশগ্রহণ করে তারা সবাই বলে তাদের সময় ভালো কেটেছে এবং তারা এই ক্যাম্পে থেকে অনেক নতুন কিছু জানতে পেরেছে। তাদের মধ্যে একজন জানালো, ডেনমার্ক থেকে আমরা প্রায় আশিজন এখানে এসেছি। আমার খুব ভালো লেগেছে এইসব বিষয়ে জানতে আর ডঃ মোহাম্মদ তাহির-উল-কাদরির কথা শুনতে।

ইউরোপ এবং আমেরিকায়ও আল-হিদায়ার মত আরও ক্যাম্প তৈরি করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে এবং তার প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। আশা করা যায় যারা তাতে অংশগ্রহণ করবে তারা উগ্রবাদ সম্মন্ধে জানতে পারবে এবং তার মোকাবেলা করার চেষ্টা করবে। তারা নিজেদের দেশে এবং সারা বিশ্বে হিংসা না, শান্তির প্রতীক তুলে ধরবে।

XS
SM
MD
LG