অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে উগ্রবাদ : উত্থান ও কারণ: দ্বিতীয় পর্ব

  • আনিস আহমেদ

বাংলাদেশে উগ্রবাদ : উত্থান ও কারণ: দ্বিতীয় পর্ব

বাংলাদেশে উগ্রবাদ : উত্থান ও কারণ: দ্বিতীয় পর্ব

আমাদের এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বেই আমরা আলোকপাত করেছিলাম যে বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গি তৎপরতার যে প্রকাশ ও বিবর্তন ঘটেছে গত প্রায় এক দশক আগে থেকেই। এক পর্যায়ে কথিত বাংলা ভাই এবং জে এম বি প্রধান আব্দুর রহমানসহ বেশ কিছু জঙ্গির মৃত্যুদন্ড হবার পর এমনটি মনে করা হয়েছিল যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অবসান ঘটেছে। কিন্‌তু বাস্তবে এ ধরণের জঙ্গি গোষ্ঠিগুলোর নের্তৃত্বের অনেকগুলো স্তর যে থাকে সে কথা ক্রমশই প্রকাশ পেয়েছে, সাম্প্রতিক কালে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের স্বীকারোক্তিতে।

এই পুনরুত্থানের কারণ সম্বন্ধে ফাউন্ডেশান ফর ডিফেন্স অফ ডেমক্র্যাসির ডঃ ডাভিড গার্টেনস্টাইন-রস মনে করছেন যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলো সজীব ও সক্রিয় আছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেএমবি’র প্রধান সাইদুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে যে কথা বলেছেন, তাতে বলা হয়েছে যে জেএমবিতে পূর্ণকালীন প্রায় ৪০০ জন ক্যাডার সদস্য রয়েছে, আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম একটি সামরিক টীম ও রয়েছে এবং আক্রমণে সহায়তাকারী গ্রুপ ও রয়েছে, যাতে একটি দল তাৎক্ষনিক আক্রমণ চালানোর পর, অন্য দলটি দ্রুত সংগঠিত হয়ে যায়।

জে এম বি ‘র পুনরুত্থান ঘটেনি, আসলে জে এম বি সুপ্ত থেকেছে বরাবর, এ রকমটি মনে করেন ঢাকার দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। তিনি বলছেন যে জামায়াতে ইসলামির নেতাদের গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে জে এম বি ‘র তৎপরতা এবং গ্রেপ্তারকৃত জে এম বি নেতাদের জামায়ত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকারোক্তিই জঙ্গি মৌলবাদের সঙ্গে জামায়াতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ।

জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জে এম বি’র সম্পর্ক সম্বন্ধে গার্টেনস্টাইন-রস মনে করেন যে ঘটনাপ্রবাহে তাই-ই মনে হয় যে সম্পর্ক হয়ত থাকতে পারে এবং হয়ত এতে সত্যতাও আছে তবে হুট করে তিনি কোন সিদ্ধান্ত দিতে চান না। আর এই সিদ্ধান্ত দিতে না চাওয়ার প্রধান কারণ হলো জামায়াত বরাবরই বলে এসছে যে তারা গণতান্ত্রিক দল, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করে। অবশ্য জামায়াতের এই প্রকাশ্য অবস্থান এবং দলটির প্রকৃত কার্যকলাপের মধ্যে গোলাম সারওয়ার একটা পরিস্কার বৈপরীত্য লক্ষ্য করছেন।

তবে জঙ্গিদের অভ্যন্তরীন যোগসাজশের কথা যদি বাদও দেওয়া যায়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাবে এই সব জঙ্গি গোষ্ঠী যে শান্তিকামী মানুষের জন্যে একটা হুমকি হয়ে রয়েছে, সে সম্পর্কে ডাভিড গার্টেন্সটাইন-রস বলেন যে এই সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাকে তিনি কোনক্রমেই খাটো করে দেখছেন না, এর কারণ তারা প্রথমত বাংলাদেশে ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং দ্বিতীয়ত তারা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠি, বিশেষত পাকিস্তানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকতে পারে। অনু্রুপ আশঙ্কা গোলাম সারওয়ারের ও। তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদ যে শেকড় সম্প্রসারণ করতে পারে সেই আশংকাকে একেবার অমূলক ভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্‌তু বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে কি আন্তর্জাতিক অন্যান্য গোষ্ঠীরও যোগাযোগ আছে?

এই প্রশ্নের জবাবে ডঃ ডাভিড গার্টেনস্টাইন-রস এই সম্ভাবনাকে বাতিল করে দেন না যে বিশেষত দক্ষিণ এশিয়া আরো জঙ্গি সংগঠন, বিশেষত জেইশে মোহাম্মদের সঙ্গে এই সংগঠনের একটা যে সম্পর্ক থাকতে পারে সেটা নাকচ করে দেয়া যায় না। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ বছর মার্চ মাসেই জেইশে মোহাম্মদ সংগঠনটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতও বাংলাদেশের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দুটি দেশই বাঙালি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ও পাকিস্তানী উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর এই বিষয়টিকে ডঃ ডাভিড গার্টেনস্টাইন-রস আদৌ খাটো করে দেখেন না।

দক্ষিণ এশিয়ার উগ্রবাদী গোষ্ঠির বিস্তার সম্পর্কে আরো আলোকপাত বাংলাদেশে উগ্রবাদ: উত্থান ও কারণ এই ধারাবাহিকের আগামী পর্ব, দোসরা আগস্ট।

XS
SM
MD
LG