অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নিয়ন্ত্রন না করলে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের ঘটনায়, ঘনবসতি পূর্ণ বাংলাদেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলার আশংকা রাখে

  • শামীম চৌধুরী

নিয়ন্ত্রন না করলে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের ঘটনায়, ঘনবসতি পূর্ণ বাংলাদেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলার আশংকা রাখে

নিয়ন্ত্রন না করলে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের ঘটনায়, ঘনবসতি পূর্ণ বাংলাদেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলার আশংকা রাখে

বাংলাদেশে এ্যানথ্রাক্স রোগে বহু লোক আক্রান্ত হয়েছেন প্রধানত এই রোগে আক্রান্ত গবাদী পশু থেকে।

ড: সেজান মাহমুদ ফ্লোরিডার ইনসটিটিউট অফ পাবলিক হেল্থএ সহযোগি অধ্যাপক। তিনি ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে, বাংলাদেশে এ্যানথ্রাক্স কি ভাবে মোকাবেলা করা হয়, অ্যানথ্রাক্স কত রকমের হতে পারে এবং এর মারাত্মক কি প্রভাব স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে, সবচেয়ে বড় কথা মাস দুয়েকের মধ্যেই ঈদুল আযহা উযযাপিত হবে, তার প্রেক্ষিতে এ্যানথ্রাক্স কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে ইত্যাদি বিষয় বক্তব্য রাখেন।

ড: সেজান মাহমুদের আসল নাম সালেহ এম এম রহমান, তবে লেখক হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে বাংলাদেশে সেজান মাহমুদ হিসেবে পরিচিত।

অধ্যাপক মাহমুদ কে প্রশ্ন করা হয় যে সম্প্রতি বাংলাদেশে গবাদী পশু থেকে মানুষের অ্যানথ্রাক্স হচ্ছে, অ্যানথ্রাক্স সাধারনত ক’ ধরনের হয়?
এই প্রশ্নের জবাবে ড: সেজান মাহমুদ বলেন: “মানুষের ক্ষেত্রে এটা তিন ধরনের হয়। একটাকে বলে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স, যেটা ত্বকের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে এবং এর যেসব সাইন সিমটম আমরা বলি সেটা ত্বকেই থাকে। এটাই সাধারনত বেশি হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সবগুলো কেসই কিউটেনিয়াস বা ত্বক ভিত্তিক। আর একটা হতে পারে সেটা হল গ্যাসট্রোইনটেসটাইনাল , পরিপাক প্রনালীর মধ্য দিয়ে যেটা হয়। যখন অ্যানথ্রাক্সে সংক্রমিত কোন প্রানীর মাংশ খেয়ে ফেলে মানুষ যেমন ধরুন গরু কিংবা খাসির মাংশ তখন এটা হয়। এটা কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্সের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপুর্ন এই কারনে যে পচিঁশ থেকে ষাট ভাগ ক্ষেত্রে রোগী মারা যাবে। তৃতীয় ধরনের অ্যানথ্রাক্সের নাম ইনহেলেশন। যেটা শ্বাসযন্ত্রের মধ্য দিয়ে লাঙসে বা ফুসফুসে চলে যায়, সেটা আরো মারাত্মক। সেটার সম্ভাবনা কম থাকে কিনতু তারপরেও এটা হয় বিশেষ করে যারা গবাদী পশু যেগুলো রোগে আক্রান্ত হয়েছে তার চামড়া বা লোম এগুলো নিয়ে কাজ করে। তাদের ক্ষেত্রে এটা ঘটে থাকে। বলবো এই তিন ধরনের অ্যনথ্রাক্স হতে পারে। ”
ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যানথ্রাক্স হয় এবং এই ব্যাকটেরিয়া মাটির নীচ থেকে মাটির ওপরে উঠে আসে। অ্যানথ্রাক্সে আক্রমনের ঘটনা অ্যামেরিকাতেও ঘটেছে বা ঘটে থাকে। এখানে এই রোগ মোকাবেলা করা হয় কি ভাবে?

ড: সেজান মাহমুদ বলছেন: এখানে রোগ নিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি খুবই কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করা হয়। যেহেতু অ্যানথ্রাক্স একটি বায়ো টেরোরিজম অরগানিজম বা এ ধরনের অর্গানিজম হিসেবে বলা হয়। যদি অ্যামেরকাতে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে, সাথে সাথে সেনটার ফর ডিজিজ কনট্রোল বা রোগ নিয়ন্ত্রনের জন্যে যারা নিয়োজিত আছেন তাদরেকে জানাতে হয়। এখানে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে চিকিত্সা দেওয়া একই সংগে যারা এটা নিয়ে কাজ করছে, হাই রিস্ক গ্রুপ আমরা বলি তাদেরকে, তাদেরকে ভ্যাকসিন যেটা অ্যানথ্রাক্সের জন্যে প্রতিশেধক হিসেবে কাজ করে সেটা দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে, যার রোগ হচ্ছে তাকে চিকিত্সা দেওয়া, যেখান থেকে তার হতে পারে তার সোর্স বা পসিবল সোর্স, সেই যায়গাগুলোকে নিয়ন্ত্রন করা, একই সংগে যারা কাজ করছেন, এই রোগের প্রতি এক্সপোজার বা উন্মোচিত হচ্ছেন যারা, তাদের ভ্যাকসিন বা প্রতিশেধক মুলক চিকিত্সা দেওয়া – এই তিনটি নিয়ন্ত্রন মুলক ব্যবস্থা এখানে নেওয়া হয়ে থাকে। একই সংগে অন্য আর একটি বিষয় গুরুত্বপুর্ন এখানে, অ্যানথ্রাক্সের ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই কিনতু তারা নজর রাখছে কার হল, কোথা থেকে হল, কিভাবে হল এবং কার কার হওয়ার সম্ভাবনা আছে, নজরদারীর মধ্য দিয়ে করা হয়ে থাকে।”
কিন্তু বাংলাদেশে যে ভাবে এই রোগ সংক্রমিত হচ্ছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যদিও বলছেন যে এ ব্যাপারে গনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন তাহলেই এটা যথেষ্ট পরিমানে সামাল দেওয়া হবে, যে ধরনের অ্যানথ্রাক্স সেখানে হচ্ছে তা জীবনের জন্যে ঝুকিঁপুর্ন নয়, কিনতু প্রশ্ন হচ্ছে যে হারে বাংলাদেশে মানুষজন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সেটা সর্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যর ওপর কি প্রভাব ফেলবে? আপনি এটাকে কিভাবে দেখছেন?
ড: সেজান মাহমুদ বলছেন: “ জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলাবে কয়েকটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, এক বাংলাদেশে জনসংখ্যা অত্যন্ত ঘনবসতি পুর্ন। দুই; বাংলাদেশে যে গবাদী পশু আছে তার সবগুলোকে পরীক্ষা করা বা এরকম কোন নিয়ন্ত্রনমুলক ব্যাবস্থা প্রতুল না, পর্যাপ্ত পরিমানে নেই। তৃতীয় আর একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় খেয়াল করা দরকার ঠিক এক কি দেড়মাস পরেই বাংলাদেশে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উযযাপিত হবে, ঈদুল আযহা, এবং সেখানে ধর্মীয় কারনে যে পরিমান গবাদী পশু জবাই করা হয়, তার মধ্যে গুরুত্বপুর্ন হল এর মধ্যে কতগুলো অ্যানথ্রাক্স মুক্ত তা আমরা জানতেই পারবোনা। এই ধরনের মাংশ খেলে মানুষের দ্বিতীয় ধরনের গ্যাসট্রোইনটেসটাইনাল বা পরিপাক প্রনালী অ্যানথ্রাক্স সেটা কিনতু আরো মারাত্মক হতে পারে। দুই হল এই চামড়াগুলো যারা হ্যান্ডলিং করবে বা প্রসেস করবে, তারা কিনতু ইনহেলেশন অ্যানথ্রাক্স যেটা শ্বাস যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যায় সেটার প্রতি এক্সপোজড্ হবে। এই তিনটি জিনিষ বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রন প্রদ্ধতি এই তিনটি খেয়াল করলে জনসংখ্যার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলার আশংকা করছি, এবং আমার মনে হয় বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য বিভাগ এ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন ব্যাক্তিদেরও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।”

সংশ্লষ্ট

XS
SM
MD
LG