অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তিউনিশিয়া–লিবিয়া সীমান্তের কাছে শরনার্থী শিবিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে

  • লিসা শ্লাইন

তিউনিশিয়া–লিবিয়া সীমান্তের কাছে শরনার্থী শিবিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে

তিউনিশিয়া–লিবিয়া সীমান্তের কাছে শরনার্থী শিবিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে

জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আবেদন জানাচ্ছে, তিউনিশিয়া-লিবিয়া সীমান্তের কাছে এক শিবিরে গত সপ্তাহে যে মারাত্নক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং তাতে যে হাজার হাজার শরনার্থী ও অভিবাসী শ্রমিকের ক্ষতি হয়, তাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত পাঠানোর জন্য। ইউ এন এইচ সি আর (UNHCR) বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে শর্নার্থীরা নিরাপদে নিজের দেশে ফিরে যেতে পারবে না তাদের পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা করার জন্য।

এ সম্পর্কে জিনিভা থেকে লিসা শ্লাইনের পাঠানো রিপোর্ট। পড়ছেন শাগুফতা নাসরিন কুইন।

২২ মে তিউনিশিয়ার পুর্বাঞ্চলে চুচা শিবিরে গুরুতর সংঘাত শুরু হয়। শিবিরে এক অগ্নীকান্ডে এরিট্রিয়ার চার জন নাগরিক নিহত হয় আর ২০টি তাবু ধংশ হয়ে যায়।

তার আগে পর্যন্ত ৪ হাজার শরনার্থী ও অভিবাসী শ্রমিক যারা প্রধানত সোমালিয়া, এরিট্রিয়া, এবং সুদানের তারা লিবিয়ার সংঘাতের কারণে পালিয়ে এসেছে এবং ওই শিবিরে বসবাস করছে। তাদের অনেকেই দুমাসের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছে নিজের দেশে ফিরে যেতে অথবা অন্য কোন দেশে আশ্রয় নেওয়ার জন্য।

জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থার মুখপাত্রী মেলিসা ফ্লেমিং বলেছেন, কবে তাদের প্রত্যাবর্তন করা হবে সেটা না জানার চাপ এত প্রচন্ড হয়ে যায় যে তাতে সহিংশ প্রতিক্রিয়ার সূচনা হয়।

তিনি বলেন জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল বুধবারের পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখেছে এবং দেখেছে যে শিবিরের দুই তৃতীয়াংশ ধংশ হয়ে যায় বা লুঠ তরাজ হয়।

তিউনিশিয়ার সামরিক বাহিনীর সাহায্য নিয়ে আমরা তখন থেকে চেষ্টা করছি সেই লোকজনকে সাহায্য করতে যারা ছিন্নমূল হয়েছে। তাদের অন্তত যাতে সাহায্য করতে পারি যাতে তারা সাময়িক ভাবে আশ্রয় পায়, বিছানা খাদ্য ইত্যাদি পায় যতক্ষন না আমরা শিবির পুনর্গঠন করতে পারি ভাল ভাবে।

ফ্লেমিং এই পরিস্থিতিকে খুব জটিল বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে লোকজন বিভিন্ন দেশের এবং তাদের চাহিদাও ভিন্ন। তিনি বলেন বহু অভিবাসী শ্রমিক তাদের নিজ দেশে স্থানান্তরণের অপেক্ষায় আছে। অন্যান্যরা হচ্ছে শরনার্থী যাদেরকে তাদের নিজেদের দেশে স্থানান্তরণ করা যাবে না কারণ সেসব দেশে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল।

আমরা আবারও দাতা প্রতিষ্ঠান ও যে সব দেশে পুনর্বাসন করা হবে সে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংগঠন আই ও এম কে আরও সাহায্য দেওয়ার জন্য তাদের মানবিক স্থানান্তরণ কার্যক্রমের জন্য এবং যে সকল শরনার্থীর প্রয়োজন রয়েছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা তরান্বিত করার জন্য। আপনারা যেমন জানেন তিউনিশিয়ায় সীমান্তে ব্যাপক হারে মানুষ ছিন্নমূল হয়েছে এবং তাতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছ এ তা হ্রাস পাচ্ছে না।

ফ্লেমিং বলেন চাপ কমবে না বা সমাধান পাওয়া যাবে না যতক্ষন না দাতা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের জন্য উদার হস্তে দান করবে।

জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা এ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ৮ কোটি ডলারের মধ্যে মাত্র ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ডলারের একটু বেশি পেয়েছে। তিউনিশিয়ার জরুরী অবস্থার প্রক্ষিতে অগাস্ট মাস পর্যন্ত চলার জন্য তাদের ওই অর্থের প্রয়োজন।

XS
SM
MD
LG