অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে উগ্রবাদ:নারীর সম্পৃক্ততা: দ্বিতীয় পর্ব

  • শামিম চৌধুরী

Terrorism

Terrorism

বিশ্বে যে সব সন্ত্রাসি দলে নারীর অংশগ্রহন দেখা গেছে তার মধ্যে উল্লেখ্য ইটালির রেড ব্রিগেড, জার্মানীর রেডআর্মি, শ্রীলংকার বিদ্রোহী তামিল টাইগার্স বা এলটিটিই। পেরুর সেনডেরো লুমিনোসো সন্ত্রাসি দলই প্রথম নারীকে ব্যবহার করে তাদের কর্মকান্ডে। কিনতু এই সন্ত্রাসি দলগুলো ধর্ম ভিত্তিক নয়। ধর্ম ভিত্তিক সন্ত্রাসি বা উগ্রবাদী দলে নারী সম্পৃক্ততা কিংবা এই দলগুলো নারীকে দলে অর্ন্তভুক্ত করছে তাদের মতাদর্শ সমাজের গভীরে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশে নারী সম্পৃক্ততা ধর্ম ভিত্তিক উগ্রবাদী দলে কিংবা এই দলগুলো নারীকে দলে অর্ন্তভুক্ত করছে তাদের মতাদর্শ সমাজের গভীরে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
বাংলাদেশে উগ্রবাদী দলগুলো তাদের কর্মকান্ডে নারীকে সম্পৃক্ত করছে যে তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ রাজশাহীর বাগমারা, আত্রাই, রাণীনগর এলাকা। ২০০৪ সালের পয়লা এপ্রিল এই এলাকায় জামাতুল মুজাহেদিন, বাংলাদেশ সংক্ষেপে জে এম বি নামে উগ্রবাদী দল আত্মপ্রকাশ করে, তারা স্লোগান দিল, হত্যা করলো লোকজন আতংকিত হলো এবং মাইকে ঘোষনা দিয়ে স্কুল কলেজের মাঠে নারী পুরুষ সমাবেশ করে নারী সদস্য সংগ্রহ করতে শুরু করলো, যা এর আগে কখনই হয়নি।
বাংলাদেশের চ্যানেল আই টেলিভিশনের রাজশাহী স্টাফ রিপোর্টার আবু সালেহ মোহাম্মদ ফাত্তাহ বলছেন জে এমবি’র নারী সদস্য সংগ্রহের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন যে সব পরিবার সর্ব্বহারাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল , তাদের জেএমবিতে সহজেই সদস্য করে নিয়েছিল এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছিল তারা। সর্ব্বপরি তদানীন্তন প্রশাসন তাদেরকে সহযোগিতা করেছিল। এই অঞ্চলে ক্যাম্প গড়ে তুলল, ছেলেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলো, ধর্মভীরু অসহায় গরিব পরিবারের ছেলে ও মেয়েদের তারা কাজে লাগায়। যেসব পরিবারের স্বামী বা ভাই সর্ব্বহারাদের হাতে নিহত হয়েছিল তাদের বলা হয়েছিল আপনার স্বামী ভাইকে সর্ব্বহারারা হত্যা করেছে, আপনারা আসেন আমাকে সাহায্য করেন আমি তাদের বিচার করবো। এতে ঐ অঞ্চলে মায়েরা বোনেরা জেএমবি’র সংগে সংস্লিষ্ট হলো, মাইকিং করে বিভিন্ন কলেজ স্কুল মাঠে সমাবেশ করা হতো মেয়েদের জন্যে আলাদা যায়গা থাকতো। তাদরে বোঝান হতো প্রতিশ্রুতি নেওয়া হতো।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জেএমবি’র নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড অত্যাচার অপতত্পরতার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, দেখা গেছে সর্ব্বহারা দলের লোকজন জেএমবির সংগে কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত দেশ ও আর্ন্তজাতিক প্রবল চাপের মুখে তত্কালিন চারদলীয় জোট সরকার জে এম বি’র শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান বাংলাভাই সহ আরো কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, বলাই বাহুল্য তাদের স্ত্রীরাও তাদের কর্মতত্পরতার সংগে ঘনিষ্টভাবেই যুক্ত ছিল । এই নারীদের কয়েকজনের জেলদন্ডও হয়েছে উগ্রবাদী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে।
বর্তমানে জে এমবি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, কিনতু যে মহিলারা, যে সব পরিবারের মহিলারা এদের সদস্য তারা কি সম্পুর্নভাবে উগ্রবাদের ধ্যান ধারনা থেকে সরে এসেছে নাকি গোপনে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারে এখনো সম্পৃক্ত। এ সম্পর্কে আত্রাই এলাকার সংসদ সদস্য ইস্রাফিল আলম বলছেন
আমরা জনগণ প্রশাসন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এলাকাকে এ ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত রাখার জন্যে আমরা চেষ্টা করছি। নারীরা তো আর আগের মতো অবরোধ বাসিনী নয়। তারা এখন সময়ের প্রয়োজনে বাইরে এসে বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। আর যেসব পরিবার একটু কনজারভেটিভ সে সব পরিবারের মেয়েরা হচ্ছে কিনা, ইসলাম শান্তির ধর্ম সন্ত্রাস ইসলাম কখনো অনুমোদন করে না। মেয়েরা এখানে ধর্মীয় প্রয়োজনে আসছে না। আসছে আত্মীয়তার জন্যে, আসছে ঐ যে মেয়েরা ফান্ডামেন্টালিজমের প্রতি ডিভোটেড হযে যায় তারা আর হচ্ছে অর্থ। এই চারটি সুনির্দিষ্ট কারন আমাদের বিশ্লেষনে পর্যবেক্ষনে ধরা পড়েছে। তবে এই অংশ গ্রহন একনো ব্যাপক হারে নয়। দলীয় ক্যাডারের সংখ্যা খুবই কম। আর অর্থের বিনিময়ে কিছু করে যারা খুব গরীপ পরিবার থেকে কিছু আসছে।
রাজশাহীতে চ্যানেল আাই এর স্টাফ রিপোর্টার আবু সালেহ মো ফাত্তাহ্ বলছেন উগ্রবাদে সম্পৃক্ত নারীর তত্পরতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা দরকার।
তিনি বলেন দু হাজার চার সাল থেকে দুহাজার দশ সাল পর্যন্ত, তাদের মনে তো একথা আছেই। তারা অবশ্যই কাজ করছে। তারা এখনো কাজ করছে হয়তো গোপনে। যে সঠিক তথ্য আমরা নিতে পারছি না বা আমাদের কাছে নেই। পাশাপাশি একটি পরিবারের যখন মা বা বোন একটি সংগঠনের সংগে জড়িত হয় তখন গোটা পরিবার এ বিষয়টিতে আস্তে আস্তে জড়িয়ে পড়ে। এখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট চেঞ্জ হয়েছে তারা কিনতু কাজগুলো গোপনে করছে। এটা কিনতু আমাদের ভাববার বিষয়।

XS
SM
MD
LG