অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বেদনায় ও গৌরবে ভাস্বর এই স্মরণ দিবস

  • আনিস আহমেদ

সোমবার ৩১শে মে যুক্তরাষ্ট্রে মেমোরিয়াল ডে বা স্মরণ দিবস পালিত হচ্ছে। যাঁরা দেশের জন্যে তাঁদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন সেই সব আমেরিকান সৈন্যের প্রতি আজ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অগনিত জনগণ। প্রায়শই তো মেমেরিয়াল ডে উদযাপিত হয় পতাকা উত্তোলনে, কুচকাওয়াজে এবং দেশাত্মবোধক চেতনায় অনেকটা বলা যায সামগ্রিক ভাবেই। কিন্তু এই উপলক্ষটা যে একান্তই নিজস্ব হতে পারে, সামরিক বাহিনীতে নিহতদের আত্মীয় স্বজন যে একান্তই মগ্নচৈতন্যে অনুভব করতে পারেন হারানো প্রিয়জনদের কিংবা যারা আহত হয়েছেন দেশ রক্ষার পবিত্র দায়িত্বে তাদের এবং তাদের স্বজনদের অনুভূতির মূল্যায়ন ও প্রয়োজন।

মিডটাউন ম্যানহাটানে প্রাক্ত সৈনিকদের হাসপাতাল । মধ্যাহ্নভোজের সময়কার ব্যস্ততা চলছে, হাসপাতাল কর্মিরা সবুজ রঙ্গের অ্যাপ্রন পরে ছুটোছুটি করছেন , রোগিদের কিংবা অসুস্থ্য প্রাক্তন সৈনিকদের দেখতে এসছেন, ফুলের তোড়া কিংবা শিগগির সেরে উঠুন লেখা বেলুন হাতে অনেকেই। আর এই প্রাক্তন সৈনিকদেরই একজন হচ্ছেন বিল জোসেফ, তিনি দুপুরের খাবার খেতে খেতে তাঁর বিদেশ যুদ্ধের টুপিটা একটু ঠিক করে নিয়ে, আজ থেকে তিন দশকের ও বেশি সময় আগে ভিয়েৎনাম যুদ্ধের সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে তাঁর সক্রিয় ভুমিকার স্মৃতি চারণ করেন।

তিনি স্মৃতিচারণ করলেন কমান্ডার বিল সারফেসের , যিনি কমান্ডার হওয়া সত্বেও সবার কাছে বন্ধুর মতোই ছিলেন, ছিলেন সংবেদনশীল ব্যক্তি একজন বড় মাপের বিমান চালকও। তবে ঐ যখন আমেরিকান অভিনেত্রী জেইন ফন্ডা হ্যানোয়ে গেলেন, যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর মনোভাব প্রকাশ করতে, তেমন সময়ে বিল সারফেসের বিমানে গুলি করা হয়, বিমানটি বিধ্বস্ত হয় সমুদ্রের বুকে।

বিল জোসেফ বলেন যে কর্তব্য শেষে তিনি যখন দক্ষিণ পুর্ব এশিয়া থেকে জাহাজে করে সান ফ্যান্সিকোতে পৌছান তখন আন্দধ্বনির মধ্যে তিনি যে বিষন্ন হয়ে পড়েন , কারণ তিনি বলেন, “ কমান্ডার বিল সারফেসের স্ত্রী এবং তাঁর ১৪ বছরের ছেলেটি অপেক্ষা করছিল । ছেলেটি আবেগ আপ্লুত হয়ে বললো, তুমি না বলেছিলে বাবাকে ফিরিয়ে আনবে !ছেলেটির এই আবেগ আমাকেও ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়েছিল।“
আরো একজন যোদ্ধা মার্কো টরেস, তার স্কোয়াডের তিনজনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন। এই তিনজনকে গত বছর আফগানিস্তানে কাবুলের কাছে সড়কে আচমকা আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করা হয়। এদেরই একজন ছিলেন মার্কোর বড় ভাই ‘এর মতো প্রায় । টরেস বলছিলেন,
“এই সার্জেন্ট ম্যাককেই সবার কথ শুনতেন ধৈর্য নিয়ে। আমার যখনই কোন সমস্যা হতো আমি যেতাম তার কাছে । তিনি তখন তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দিতেন”।

টরেস স্মরণ করছেন আরেকজন স্কোয়াড সদস্যকে যার নাম প্যালমাটির এবং তিনি ও আফগানিস্তানের এই রকম এক আচমকা আক্রমণে প্রাণ হারান:
“লোকটি বরাবরই খুব হাসিখুশি ধরণের ছিলেন। তিনি সব সময়ে আমাদের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করতেন । ছোট ছোট লাল চুল ছিল তাঁর এবং মাথার সামনের দিকটা একটু টাকের মতো ও ছিল”।
এই রকম সব টুকরো টুকরো স্মৃতি ছড়িয়ে আছে এই সব বীর সন্তানদের , যারা মার্তৃভুমির মর্যাদা রক্ষার্থে প্রাণ দিয়েছেন , দেশে কিংবা বিদেশে। ভিয়েৎনাম, ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা অন্যত্র যেখানেই বলুন আমেরিকান সৈন্যদের এই আত্মত্যাগ অমর হয়ে থাকবে
এই অমরত্বের কথা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন তাঁর সাপ্তাহিক ভাষণে:
প্রেসিডেন্ট বলেন, “আজ কেবল আমরা যারা উর্দি পরেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি না বরঞ্চ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সেই সব নারী পুরুষের প্রতিও যারা এ দেশের জন্যে আত্মোৎসর্গ করেছেন, যারা এ দেশের নাগরিকদের প্রতিরক্ষায় নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন”।
তিনি নিহত প্রাক্তন সৈনিকদের প্রতি কেবল কথায় নয়, কাজেও শ্রদ্ধা জানাতে বলেন।
আর্জেন্টিনার প্রয়াত লেখক হোসে নারোস্কি এক সময়ে বলেছিলেন, “ যুদ্ধে অক্ষত সৈন্য বলে কোন কথা নেই। সুতরাং যুদ্ধে যে সব সৈন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন তাঁদের এবং যাদের জখম কখনো শুকায় না তাদের সবাইকে স্মরণ করে, আমেরিকানরা তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।





XS
SM
MD
LG