অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

"লেখালেখি চলবে", বললেন ব্লগার ইমরান সরকার, আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল ও অনন্য আজাদ


বাংলাদেশে অতি সম্প্রতি দুজনকে ব্লগারকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। ব্লগাররা কি চিন্তাভাবনা করছেন...... ঢাকায় ব্লগার ইমরান সরকার, আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল এবং অনন্য আজাদের মন্তব্য ভিত্তিক প্রতিবেদন শোনাচ্ছেন শতরূপা বড়ুয়া। (রিপোর্টের বিস্তারিত শুনুন অডিওতে)

“Words cannot be killed”…শব্দকে খুন করা যায় না, বিশ্বাস করতেন ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু। কিন্তু সেই আশিকুরকেই মেরে ফেলল ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা্‌...প্রকাশ্য দিবালোকে। কদিন আগেই বই মেলা প্রাঙ্গনে বাংলাদেশী-আমেরিকান ব্লগার অভিজিত রায়কে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল।

অমি রহমান পিয়াল, আরিফ জেবতিক, ইমরান সরকার ও অনন্য আজাদ মনে করেন, এই সাম্প্রতিক ব্লগার হত্যাকান্ডগুলো ঘটছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালে যে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হলো তার জের হিসেবে।

যাদেরকে আক্রমণ করা হচ্ছে, তাদেরকে নাস্তিক, ইসলাম বিরোধী, ধর্মবিরোধী বলা হচ্ছে। যদিও বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, এই ধরনের হত্যাকান্ড কাম্য নয়, অনেকে আবার এও মনে করেন, কিছু কিছু ব্লগারের বক্তব্য আপত্তিকর। বাংলাদেশে ব্লাসফেমি আইন না থাকলেও, ইমরান সরকার পিনাল কোড 1860’র কথা উল্লেখ করে বলেন, এই আইনের আওতায় কেউ যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়, তার শাস্তি কারদন্ড হবে। ২০১৩ সালে তার আওতায় ৪ জন ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে জানা যায়, সেই অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন।

ওদিকে অমি মনে করেন, “প্রভোকেটিভ” লেখা না লেখাই ভালো।

তাঁরা সবাই মনে করেন, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বা বিরোধীদল, এই হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে কোন জোরালো অবস্থান নিচ্ছে না। একদিকে বিরোধী দলের একটি অংশ দাবী করে আসছে, দেশে ভীতি, নৈরাজ্য, অসহনশীলতা ও বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এবং তাতে প্রশ্রয় পাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ওদিকে সরকার বলছে, ইসলামিক জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধতায় মদত যোগাচ্ছে বিরোধী দল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তাদের আস্থা নেই বলে জানালেন ব্লগাররা।

আজ ব্লগাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইমরান, অমি, আরিফ, অনন্য......তাদের প্রত্যেকের নাম নানা ধরনের হিটলিস্টে দেখা গেছে। আরিফ মনে করেন, সরকারকে তাদের নিরাপত্তা দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

ওদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থার কথা বললেন অনন্য আজাদ। তিনি বললেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর ভিন্নমত, পরমত সহিষ্ণুতায় ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চ কর্মসুচীর অংশ হিসেবে তারা যখন পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও করতে যান, সেই অভিজ্ঞতার কথা বলেন, বলেন পুলিশ তাঁর প্রতি অন্যায় আচরণের কথা।

একের পর এক ব্লগারদের ওপর হামলাকে তাঁরা মনে করেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধির চিন্তার ওপর আক্রমণ।

আজ ব্লগাররা শুধু তাদের নিজেদের জীবন নিয়েই ভীত নন, তাঁরা তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবেও উদ্বিগ্ন। অবশ্য তাঁরা বললেন, লেখা তাঁরা চালিয়ে যাবেন।

২০০৪ সালে লেখক বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন আজাদের ওপর একই কায়দায় হামলা চালিয়েছিল ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা। তাঁরই ছেলে অনন্য, ব্লগ লেখেন...।বাবার আদর্শে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও বললেন, তাঁর নীতি বা আদর্শ থেকে পিছুপা তিনি হবেন না।

(রিপোর্টের বিস্তারিত শুনুন অডিওতে)

XS
SM
MD
LG