অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টীঃ বাংলাদেশ বহুলাংশেই সহনশীল ও ধর্মীয় দিক দিয়ে মধ্যপন্থি একটি দেশ

  • সরকার কবীরূদ্দীন

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক পার্টনারশীপের বা শরিকানা সম্পর্কের কথায় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টী বলেন, এ সম্পর্ক চমত্কার একটা অবস্থায় রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে যে অবস্থানে থেকেছে, সে অবস্থানেই বিরাজ করছে।

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টীঃ বাংলাদেশ বহুলাংশেই সহনশীল ও ধর্মীয় দিক দিয়ে মধ্যপন্থি একটি দেশ

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টীঃ বাংলাদেশ বহুলাংশেই সহনশীল ও ধর্মীয় দিক দিয়ে মধ্যপন্থি একটি দেশ

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টী বলেন, এ সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশকে তার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বানিজ্য শরিক হয়ে থেকেছে। বাংলাদেশকে তার উন্নয়ন কর্মকান্ডে মদত জুগিয়েছে। ওবামা প্রশাসন ভবিষ্যত প্রজন্মের মুখের আহার যোগানোর যে বিরাট উদ্যোগ নিয়েছে, বুভুক্ষা দূর করতে যে প্রয়াসে ব্রতী হয়েছে, তার আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ সরকারেরও নিজস্ব যে বিস্তৃত পরিসরের কর্মসূচী রয়েছে, মে মাসে ঢাকায় আমরা সে ব্যাপারে বড় মাপের একটা সম্মেলন করি। আমরা। ঐ কর্মসূচীর বাস্তবায়ন অভিমুখে আমরা আমাদের বাংলাদেশি শরিকদের সঙ্গে মিলে কাজ করবো এবং খাদ্য সূরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা দেবে বলে আশা করছি আমরা। এভাবে ভবিষ্যতে বুভুক্ষ মানুষের সংখ্যা অনেক কমবে বলেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টী ভয়েস অফ এ্যামেরিকার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্কারে।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুপাক্ষিক গণতন্ত্রের প্রশ্নে জবাব দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টী বলেন তাঁর মতে বাংলাদেশ বহূলাংশেই সহণশীল ও ধর্মিয় দিক দিয়ে মধ্যপন্থি একটি দেশ। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে মানুষ একে অন্যের ধর্মিয় অনুষ্ঠানাদিতে শরিক হয়, একে অন্যের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব পোষন করে।

রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টী বলেন ঐতিহ্যগত ধারাতেই এই সহনশীলতা ও সম্প্রিতির মাঝেই যে তাদের পরিচিতি নিহিত রয়েছে বাংলার মানুষের মধ্যে সে বোধটা ক্রমশই জোরালো হচ্ছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টী বলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন মোটামুটি নিরাপদ বোধ করেন এবং আগামীতে কোনো হূমকি আসতে পারে এমন আশংকা তাঁদের নেই। রাষ্ট্রদূত বলেন তাঁদের সঙ্গে আমার কথাবার্তা হয় এবং এমনটিই আমার মনে হয়েছে।

বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী তত্পরতার উল্লেখে রাষ্ট্রদূত তাঁর সাক্ষাত্কারে জানান বাংলাদেশ এই সন্ত্রাস ভিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলেই তাঁর মনে হয়েছে। ২ হাজার ৮-এর এপ্রিল থেকে নিয়ে বাংলাদেশে তাঁর অবস্থানকালে এটাই তাঁর মনে হ’য়েছে। সহনশীলতার মৌলিক মূল্যবোধকে সন্ত্রাস যে আতংকিত করে, ভিতিগ্রস্ত করে, কথাটা বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার বুঝতে পেরেছে। শুধু বর্তমান সরকার নয়, বাংলাদেশের মানুষও অনুধাবন করে যে সন্ত্রাস এমনই একটা ভিতি যার মূলোত্পাটন একান্তই অপরিহার্য্য।

সন্ত্রাসে মদত জোগানো খতম করতে হবে বলে রাষ্ট্রদূত মত প্রকাশ করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যাতে রাষ্ট্রকে তা বিঘ্নিত না করে, ব্যক্তি বিশেষের ক্ষতি করতে না পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচীবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি সে আলোচনাকে খুব ভালো আলোচনা বলে অভিহিত করে বলেন দৃপ্ত পার্টনারশীপ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে, মতদ্বৈধতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কসোভোকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে কথাবার্তায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচীব জানিয়েছেন, কসোভোকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া বাংলাদেশ সরকার নাকচ করেনি।

XS
SM
MD
LG