অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীফ-উল-হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

জীবনের প্রয়োজনেই জীবনের সৃষ্টি। আদিকাল থেকেই মানুষের বংশবৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য মানুষ বংশবৃদ্ধি করে। কিন্তু এই বংশবৃদ্ধির হার যখন অস্বাভাবিক পর্যায় অতিক্রম করে তখনই দেখা দেয় বিপত্তি। দিনে দিনে মানুষ বাড়লেও পৃথিবীতে জায়গা না বাড়ার ফলে জরুরী হয়ে পড়েছে জন্মের হার নিয়ন্ত্রণের। এই ধারণা থেকে সমাজের সবাইকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৬শে সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় বিশ্ব জন্মনিয়ন্ত্রণ দিবস।

স্বাস্থসেবাকে বেসরকারি পর্যায়ে শক্তিশালী করতে কাজ করছে SHOPS। বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রণের হার, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে SHOPS’র কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেছিলাম SHOPS এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. এ এস এ মাসুদের সাথে। “মানুষের সাথে সম্পদ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না। বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় এর জনসংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণের জন্য চাই একটি সুষম পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থা। বাংলাদেশে এখন মানুষের বৃদ্ধির হার ২.৩ শতাংশ। প্রায় ৫০ বছর আগে থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা বাংলাদেশে চালু থাকলেও দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ পরিবার পরিকল্পনা সেবার বাইরে। তার উপর প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সেবা পাচ্ছে না ১২ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ”।

যুগের সাথে সাথে গর্ভবতী মায়েদের সেবা নেয়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে । ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে SHOPS বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানের একটি সার্বিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবা নিতে আসা রোগীদের সচেতন করা, গাইনী ডাক্তারদের সচেতন করা, দীর্ঘমেয়াদী পরিবার কল্পনা সেবা সম্পর্কে মানুষ কে উতসাহিত করা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও এর অন্তর্ভূক্ত।

সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রথমবারের মত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এই সেবা’র দ্বার উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে SHOPS। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ৫০ টি হাসপাতালকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সকল বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে SHOPS। ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সরকার অনুমতি প্রদান করেছে বেসরকারি পর্যায়ে সেবা প্রদান এবং এর জন্য চার্জ আরোপ করার।
XS
SM
MD
LG