অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কেন ব্রাজিলের মানুষ কেবল ফুটবল নিয়েই মেতে থাকে

  • রোকেয়া হায়দার

বিশ্বকাপের খেলা দেখছি, ফলাফল তো নিয়মিত দেখছি, শুনছি আর খবরের কাগজ-ম্যাগাজিনে পড়ছি। তবে ব্রাজিলের সাঁও পাওলো শহরের এক্কেবারে মাঝখানটিতে যে অভিনব এক আকর্ষণীয় স্থান, কি বলবো জাদুঘর, বিশ্বকাপের মিউজিয়াম রয়েছে সেটা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল প্রেমীদের জন্য রয়েছে ফুটবল খেলা আর সেইসঙ্গে ব্রাজিলের ইতিহাস-সংস্কৃতির নানা তথ্য উপাত্ত, সাজানো আছে নানা পণ্য সামগ্রী। সাঁও পাওলোর বিশাল স্টেডিয়ামে পাশেই এই ইতিহাস সমৃদ্ধ বিশাল ভবনে গিয়ে দেখতে পাবেন কেন ব্রাজিলের মানুষ কেবল ফুটবল নিয়েই মেতে থাকে। একশো বছরেরও বেশী তাদের সেই ফুটবলের ভালবাসার ইতিকথা।

স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে যাবেন, থমকে দাঁড়াবেন - ‘আরে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন –হ্যাঁ তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান, ফিফার বিচারে শতাব্দীর সেরা এক ফুটবলার পেলে!’ তিনটি ভাষায় আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন পেলে – পর্তূগীজ, স্প্যানিশ আর ইংরেজীতে। প্রতিদিন ১ হাজারের মত অতিথি আর বিশ্বকাপ চলাকালে দিনে ২ হাজার অতিথিকে স্বাগত জানান তিনি। এ শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, সেখানে ধ্বনিত হচ্ছে গোল করার আনন্দ উল্লাস, রেফারীর হুইসেলের আওয়াজ, আর হারজিতের উচ্ছাস।

ব্রাজিলের ওই মিউজিয়ামের পরিচালক ড্যানিয়েলা আলফোন্সি। তিনি জানালেন সেখানে রয়েছে ১৫টি বিশাল কক্ষ। প্রতিটি কামরায় জীবনের গতি যেন ভিন্নতর। এক আশ্চর্য্য পরিবেশ। কোথাও বা কেবলই বেতারের ধারাবর্ণনা শুনতে পাবেন, কোথাও দর্শকভক্তদের প্রতিক্রিয়ার দোলা, এ হচ্ছে শুধুই ফুটবল খেলা নয়, ফুটবলকে নিয়ে এক বিশেষ শিল্পকলার সম্ভার।
পেলে একসময় ফুটবলের বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন – ‘ও ইওগো বোনিতো’ অর্থাৎ ‘সুন্দরতম খেলা’।

এখনও অনেকেই ফুটবলকে সেইভাবেই বর্ণনা করেন। আর এই মিউজিয়ামটি দেখে সহজেই বোঝা যায় – তা খাঁটি বটে। ব্রাজিলিয়ানদের প্রানমন জুড়ে রয়েছে ফুটবল আর ফুটবল…..তবে একটি কক্ষে গিয়ে থমকে দাঁড়াতে হয়! সেখানে একটি বিশেষ কক্ষে রয়েছে একটি নাটকীয় দৃশ্য-যা ব্রাজিলের প্রতিটি মানুষের হৃদয় ষ্পর্শ করে। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে রিওর মারাকানিয়া ষ্টেডিয়ামে ৯০ হাজারেরও বেশী ভক্ত দর্শকের সামনে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের পরাজেয়র সেই ছবি। যা ভোলার নয়। তবে ব্রাজিল পরবর্তীতে পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস নিয়ে এখন সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই মিউজিয়ামেরই আরেক কক্ষ ‘হল অব হিরোজ’ বা মহানায়কের মিলনায়তনে।
XS
SM
MD
LG