অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আমাকে বাংলাদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি - বৃটিশ আইনবিদ টোবি ক্যাডমান

  • রোকেয়া হায়দার

বাংলাদেশে যুদ্ধ অপরাধের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জামাত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় । বৃটিশ আইনবিদ টোবি ক্যাডমান বাংলাদেশে জামাত নেতাদের যুদ্ধ অপরাধে বিচারের বিষয়ে সহায়তা করছেন । জামাতে ইসলামী দল তাকে বাংলাদেশে গিয়ে বিচার কাজে সাহায্য করার জন্য নিয়োগ করেছিল কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশে বিদেশী আইনবিদের সহায়তার প্রয়োজন নেই ।

বাংলাদেশে ১৯৭১র যুদ্ধ অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে । এই পর্যায়ে তার প্রতিক্রিয়ায় টোবি ক্যাডমান বললেন ঃ

‘আমাকে বলতেই হবে যে বর্তমানে তা খুবই হতাশাজনক পর্যাযে রয়েছে । রাষ্ট্রদূত স্টিভেন র‌্যাপও ট্রাইব্যুনালের কাছে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ করেছিলেন । আমরা যেটা করতে চেষ্টা করছি তা হলো রাষ্ট্রদূত র‌্যাপ বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট হয়ে এটা নিশ্চিত করবেন, যা কিছু সুপারিশ করা হয়েছে তা যাতে কার্যকর হয় ।

টোবি ক্যাডমান বসনিয়া-হেরজোগোভিনা, রোয়াণ্ডায় যুদ্ধ অপরাধের বিচার কাজে জড়িত ছিলেন । সেইসব ট্রাইব্যুনালের থেকে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালে কোন পার্থক্য লক্ষ্য করছেন কি ? এ প্রশ্নের জবাব ছিল ঃ

‘আমি মনে করি এটা ভিন্নতর । কারণ আমার মতে এটা আন্তর্জাতিক মান পূরণ করছে না । রাষ্ট্রদূত র‌্যাপ যে সব সুপারিশ করেছিলেন, তার মূল লক্ষ্যই ছিল সেটি । আন্তর্জাতিক মান বলতে পারেন অথবা – মৌলিক অধিকার বলতে পারেন । বিশেষ কিছু নীতিমালা আছে যা সকল ট্রাইব্যুনালকে অবশ্যই মেনে চলতে হয় । যেমন বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক সংশোধনীতে এদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে । অন্য কোন ট্রাইব্যুনালে এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার খর্ব করা হয়নি ।

টোবি ক্যাডমান বলেন, ৪০ বছর পর এই বিচার কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সরকার যথার্থই বলিষ্ঠ উদ্যোগ নিয়েছেন । তবে তিনি কি বিদেশী আইনবিদ হিসেবে তার কাজ করতে পারছেন ? তিনি জানালেন,

‘না, আমি কাজ করতে পারছি না কারণ আমাকে সে দেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি, আমি এক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য যাওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি । আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কারণ জানানো হয়নি । ঢাকা বিমান বন্দরে ভিসা বিভাগে আমাকে বাধা দেওয়া হয় । বলা হয় যে একটি নির্দেশ অনুযায়ী আমাকে সে দেশে প্রবেশ করতে দেওযা হবে না । বলা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালযের নির্দেশ রয়েছে । আমি বরাবরই মনে করি বিচার কাজ হওয়া উচিত তবে তা আন্তর্জাতিক মান সম্মত হতে হবে ।

সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি মনে করেন যে, বাংলাদেশ সরকারকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে আন্তর্জাতিক সমাজ যাতে মনে না করে যে এটা রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত।

XS
SM
MD
LG