অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এ সপ্তার হ্যালো ওয়াশিংটন :বাংলাদেশ, বিজয়ের ৩৯ বছর, সফল্য ও ব্যর্থতা

  • আনিস আহমেদ

এ সপ্তার হ্যালো ওয়াশিংটন :বাংলাদেশ, বিজয়ের ৩৯ বছর, সফল্য ও ব্যর্থতা

এ সপ্তার হ্যালো ওয়াশিংটন :বাংলাদেশ, বিজয়ের ৩৯ বছর, সফল্য ও ব্যর্থতা

আজ বাংলাদেশে এই রাত পোহালেই আসবে বিজয় দিবস । আজ থেকে ঊনচল্লিশ বছর আগে এমনি দিনে লক্ষ লক্ষ্ লোকের প্রাণের বিনিময়ে , নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি জাতি একটি জাতি থেকে জাতি-রাষ্ট্রে পরিণত হলো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়কে যারা সম্ভব করেছেন , সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শুরু করছি ভয়েস অফ আমেরিকার কল ইন শো’র এই সঙ্কলন । আজকের বিষয় : বিজয়ের ঊনচল্লিশ বছর , সাফল্য ও ব্যর্থতা । আজ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন দু জন অতিথি ।

টেলি সম্মিলনি লাইনে আমাদের সঙ্গে ঢাকা থেকে যোগ দিয়েছেন , ঢাকার দ্য ডেইলি সান পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক ড সৈয়দ আনোয়ার হোসেন । সৈয়দ আনোয়ার হোসেন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক । আজকের প্যানেলে আমাদের আরেকজন অতিথি হচ্ছেন জনাব জিয়উদ্দিন চৌধুরী । জনাব চৌধুরী বর্তমানে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাঙ্কের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট স্পেলাস্টি । তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান ও পরবর্তীতে বাংলাদেশে সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন । ১৯৭৮ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বই প্রকাশিত হয়েছে এবং নিয়মিত পত্রপত্রিকায় লিখে থাকেন।

আজকের প্যানেলিস্টদের কাছে টেলফোনে যে সব প্রশ্ন জিজ্ঞেষ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে একাত্তর পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গ , গণতান্ত্রিক রাজনীতির সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতা , মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ । আমাদের দু জন অতিথিই বলেছেন যে কিছু বিচ্যুতি সত্বেও বাংলাদেশ , তার বিজয়ের এই ৩৯ বছরে সাফল্য অর্জন করেছে অভূতপূর্ব । নানান ত্রুটি বিচ্যূতি সত্বেও এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশ অধিকাংশ সময়ে থেকেছে গণতন্ত্রের পথে। গণতন্ত্র তার প্রাথমিক পর্যায়ে কোন দেশেই পুর্ণ সাফল্য পায়নি এবং আশা করা যায় , বাংলাদেশেও গণতন্ত্র এক সময়ে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং রাজনীতিকদের সদিচ্ছায় সরকারী কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্বাধীন কমিশনগুলো দলীয় বা সরকারী প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারবে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভাজন ও বিভক্তি সম্পর্কে প্যানেলের দু জন সদস্যই দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে প্রকৃত ইতিহাসবিদদের পরিবর্তে দলীয় প্রভাবযুক্ত ব্যক্তিদের রচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পরস্পর বিরোধী ধারা চলে এসছে। তাঁরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে ইতিহাসবিদরা মুক্ত ভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস রচনা করবেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যারা যুদ্ধাপরাধ করেছেন , করেছেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ , তাদের বিচার , বর্তমান সরকারের সময়ে হবে বলে আশা করেন। বাহাত্তরের সংবিধানে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তাদের অভিমত হলো যে চেতনার দিক থেকে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে গেলেও, বাংলাদেশ পুরোপুরি বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবে কী না , সে নিয়ে পরিস্কার কিছু বলা যাচেছ না। বাংলাদেশে মিডিয়া স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তারা বলেন যে বাংলাদেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা এখন আগেকার তুলনায় অনেক বেশি সুনিশ্চিত।

সংশ্লষ্ট

XS
SM
MD
LG