অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

২০১৬ সালের নির্বাচনে সামাজিক প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা


ফেইসবুক এবং টুইটার থেকে শুরু করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট যাই বলুন না কেন এই যে নানান রকমের সামাজিক প্রচার মাধ্যম , এ গুলো এমন কী আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রার্থীদেরও একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভোটদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারটা সহজ করে দেয়।

২০১৬ সালের এই নির্বাচনী প্রচার অভিযানে সামাজিক মাধ্যমগুলো প্রার্থী ও ভোটদাতাদের মধ্যে প্রথাগত প্রভেদ ঘুঁচিয়ে দিচ্ছে ।

যেমন ধরুর CruzCrew app টুইট করার জন্য , ফেইসবুকে ফলো করার জন্য এবং ইমেইল শেয়ার করার জন্য তার সমর্থকদের পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছে।

ক্রুজ প্রচারাভিযানের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিষয়ক পরিচালক ক্রিস উইলসন বলছেন, “এই ক্রুজ অ্যাপ যে কাউকে এই ব্যাপারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হবার সুযোগ দেয়। আমাদের জন্যে অবিশ্বা্স্য রকমের উত্তেজনার বিষয় যে এই বার্তাগুলো কোন রকম বাধা ছাড়াই সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাবে”।

ক্রুজের নির্বাচনী প্রচার অভিযানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ক পরিচালক জশ পেরি বলেন. “দেখতে বেশ মজাই লাগে সে সব লোকজনকে যাদের কাছ থেকে সক্রিয় সুযোগ নেয়া যায় , এমন কেউ যে হয়ত ভাবছে আমি এদিকে ও নই ওদিকেও নেই, তাকে হয়ত সহজেই রাজি করানো যাবে”।

এই প্রচেষ্টার কিন্তু সুফল ফলেছে। ক্রুজ প্রচারাভিযান এখন রিপাবলিকানদের ওয়েবসাইট ভিসিটে শীর্ষে রয়েছে।

আসলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে যে প্রচারাভিযান কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কারণ ভোটদাতারা রাজনৈতিক সংবাদ পাঠের জন্য এবং নির্বাচনী জরিপ জানার জন্য ক্রমশই ফোনের উপর নির্ভর করছেন। তরুণ ভোটদাতারা প্রার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। প্রার্থীরা ও এই যোগাযোগের গুরুত্বটা বোঝেন এবং দল নির্বিশেষে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন ।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মাইকেল কর্ণফিল্ড বলেন , “ডনাল্ড ট্রাম্প টুইট করা বেশ ভালোভাবেই আয়ত্ব করেছেন। বেন কার্সন আবার ফেইসবুকের ওস্তাদ। এদিকে অন্যান্যরা যেমন হিলারি ক্লিন্টন এবং বার্নি স্যান্ডার্স , ইমেইল ব্যবহার করছেন”।

বার্নি স্যান্ডার্স এর সমর্থক বেন স্পিল বার্গ বলছেন যে এই প্রচার অভিযান জনগণ এবং সেই সব বিষয়ের উপর আলোকপাত করছে যেগুলো প্রচলিত রাজনৈতিক

প্রক্রিয়ার অন্তভূক্ত নয়। এটি হচ্ছে ইন্টারনেট উন্মুক্ত গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপুর্ণ । তিনি আরও বলছেন , “প্রথাগত প্রচার মাধ্যমের মতো ঠিক নয় , এখানে যে কেউ তার বক্তব্য রাখতে পারে এবং খুব প্রয়োজনীয় কিছু টুইট ও করতে পারে , এবং যদি সেখানে হ্যাশট্যাগ থাকে , তা হলে সে কথার ধারাবাহিকতা চলবে এবং তা শোনাও যেতে পারে”।

স্পিলবার্গ প্রত্যেকদিন টুইট করেন এবং ব্লগ লেখেন যা কীনা , স্যান্ডার্সকে কেন্দ্র করে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

তিনি বলছেন এই টুইটকে কেন্দ্র করে অনেক ক্রিয়া প্রতিক্রয়া চলতে থাকে এবং তারপর তা মূল সংবাদ মাধ্যমে প্রবেশ করে , জাতীয় চেতনাবোধ সৃষ্টি করে।

আর সেটাই হয় শেষ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এই নির্বাচনে , আর তা হচ্ছে নতুন করে সম্পৃক্ত একদল ভোটদাতা।

XS
SM
MD
LG