অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে-


ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে বিশ্বের চারধার থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কেউ কেউ তাঁকে নিয়ে স্তুতিবাদ করছেন- কেউ আবার নিন্দেমন্দ করছেন। ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টীন ট্রুডো ক্যাস্ত্রোর বৈপ্লবিক চেতনা নিয়ে- কিউবার জনগনের প্রতি ঐ স্বৈরশাসকের অনুরাগ-তাঁর ভালোবাসার কথা বলে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।এতে ক্যানাডায়-যুক্তরাষ্ট্রে, জাস্টীন ট্রুডোর বিরুপ সমালোচনা হয়েছে।ক্যানাডার রক্ষণশীল দলের বিধায়ক কেলী লীচ বলেছেন- ক্যাস্ত্রোকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে মনে হচ্ছে – তিনি যেন কোনো গল্পকাহিনীর বইয়ে লেখা কেচ্ছা শোনাচ্ছেন।

কিউবা-গ্রন্থীর বংশোদ্ভব যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট বিধায়ক মার্কো রূবিও ট্রুডোর প্রশংসা বাক্যে হতবাক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন- বলেন, একি কোনো বয়ান না রঙ্গরসের অবতারনা।এ যদি হয় ক্যানডার প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি- তো এর চেয়ে লজ্জাকর- বিব্রতকর আর কিছু হতে পারেনা।সামাজিক মাধ্যম বা সোস্যাল মিডিয়াতেও ট্রুডোর ক্যাস্ত্রো স্তুতি নিয়ে ব্যাঙ্গ-কটাক্ষ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদের জন্যে সদ্য নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে ক্যাস্ত্রো সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন- নৃশংস ঐ স্বৈরশাসক অবদমনের শিকার করে রেখেছিলো নিজ জনগনকেই প্রায় ছয় দশক যাবত।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পীকার পল রায়ান বলেছেন- ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের নৃশংসতা ও অবদমনেরও অবসান ঘটবে সেটাই প্রত্যাশিত।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বলেছেন- তিনি ও তাঁর পত্নি রোযালীন কিউবায় সফরকালে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মধুর স্মৃতি এবং দেশের জন্যে তাঁর ভালোবাসার কথা স্মরণ করছেন।কার্টার বলেন- সামনের বছরগুলোয় কিউবার জনগনের জন্যে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছেন।

ব্রাযিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট লুইয ইনাসিয়ো লুলা বলেছেন- কাস্ত্রো ছিলেন লাতিন এ্যামেরিকানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন কিউবার জনগনের জন্যে জাতিসংঘের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন।

ভিনেযুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন- ফিদেলের অনুজ রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কিউবার জনগনের সঙ্গে সংহতি ব্যক্ত করেছেন।

স্পেনের প্রেসিডেন্ট মারিয়ানো রাজয় ব্রে কিউবার জনগনকে সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন- ইতিহাসের বিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন ক্যাস্ত্রো।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্যাস্ত্রোকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য-বিশিষ্ট আইকনিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

য়ুরোপিয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট যাঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেছেন- বিশ্ব এমোন একজনকে হারালো,অনেকের জন্যে যিনি হিরো ছিলেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোঁয়া ওলান্দ কাস্ত্রোকে বিংশ শতকের বিরাট এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটীন ক্যাস্ত্রোকে যুগের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন

সাবেক সোভিয়েট নেতা মিখাইল গোরবাচভ ক্যাস্ত্রো নিজ দ্বীপ রাষ্ট্রকে বলশালী করেছেন বলে তাঁর প্রশংসা করেন।

ফিদেল কাস্ত্রো মারা গেলেন তাঁর ঐ দ্বীপ রাষ্ট্রটির সঙ্গে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি কাল ধরে চলতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শিতল সম্পর্ক যখন মাত্রই গলতে শুরু করেছে – তখন, বছর দুয়েকের মাথায় পৌঁছিয়েই। দু’ হাজার পনেরো সালের জুলাই মাসে হাভানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মাথায় এ্যামেরিকার পতাকা উড়তে দেখা গেলো- এরও বেশ ক’মাস পর দু’ হাজার ষোলোর ২২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার মাটিতে পদার্পন করলেন।বললেন- এ্যামেরিকা মহাদেশে শীতল সংঘাতের শেষ রেশটুকুকেও মাটি চাপা দিতে এসেছি আমি- কিউবার জনগনের প্রতি বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করতে এসেছি আমি।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন- কিউবা এবং এ্যামেরিকা মহাদেশের সরকারগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এখনো বেশ, বিশেষ করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অঙ্গনে – তবে, মতপার্থক্য দূর করতে যোগাযোগই তো শ্রেষ্ঠ পথ।

ফ্লরিডা ইন্টারন্যাশনাল য়ুনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির পরিচালক ব্রায়ান ফোনসিকা যেমন বললেন- কিউবায় রাজনৈতিক বড়ো ধরনের পুনরুত্থান নিয়ে আসতে কারো মৃত্যুই একমাত্র উপলক্ষ হতে পারেনা ।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদের জন্যে সদ্য নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন- কিউবাকে মানতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব দাবি তার মধ্যে রয়েছে- ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা- কিউবার জনগনের জন্যে- এবং রাজবন্দীদের মুক্তি দান।

গত দু’ বছরে কিউবার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে রদবদল ঘটেছে।যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন- কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু—এ পটভুমিতে রদবদল আরো হয়তো ঘটতে পারে।

XS
SM
MD
LG