অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মা ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ


child death

child death

ইন্দ্রজিৎ রায়: যশোর:

বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি। মা ও শিশুর মুখে এক ফালি হাসির জন্যে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সম্মিলিত প্রয়াসে শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব মা ও শিশু মৃত্যুর হার।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মা ও শিশু মৃত্যুর মূল কারণ ১৮ বছরের কম বয়সীদের মা হওয়া। অল্প বয়সে গর্ভবতী হওয়ায় প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, খিচুনী ও জন্মকালীন শিশুর শ্বাস কষ্ট ও কম ওজন মা ও শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশে প্রতিঘন্টায় ৯জন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে আর ৬০০ জন শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ১ জন মায়ের মৃত্যু ঘটছে। মা ও শিশু মৃত্যুর সারণী এখনও বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।

মা ও শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে। তবে শুধু সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নানা পদক্ষেপের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মা ও শিশু মৃত্যু হার শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে ২০১৪ বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩১ লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ৫ হাজার ২৭০জন মায়ের মৃত্যু হয়। অথ্যাৎ ৬০০জন শিশু জন্মদিতে গিয়ে ১জন মা মারা যান। মাত্র ৪২ শতাংশ ডেলিভারি প্রশিক্ষিত নার্সের হাতে হয়ে থাকে। বাকী ৫৮ শতাংশ গর্ভবর্তীর ডেলিভারি অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয় স্বজনের হাতে হয়ে থাকে। এর মধ্যে আবার ৬৩ শতাংশ গর্ভবর্তীর ডেলিভারি বাড়িতে হয়ে থাকে। আর মাত্র ৩৭ শতাংশ গর্ভবর্তীর ক্লিনিক বা হাসপাতালে ডেলিভারি হয়ে থাকে।

মা ও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয় স্বজনের দ্বারা ডেলিভারি করানো। প্রতি ঘন্টায় ৯জন নবজাতকের মৃত্যু হয়। মা ও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো বাল্য বিবাহ। বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ কিশোরীর ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। ২০ বছর বয়সের আগে মা হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে।

বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করছে ইউএসএইড এনজিও হেলথ সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট। প্রতিষ্ঠানটির চিফ অব পার্টি ডা. হালিদা এইচ আকতার জানান, বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যুর হার আগের তুলনায় কমেছে। তবে এখনও শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মা ও শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধে ইউএসএইড বাংলাদেশে কাজ করছে। বাংলাদেশে ৬২ শতাংশ সক্ষম দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ হার বাড়ছে। পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ মাতৃ মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডা. হালিদা বলছিলেন, তিনটি কারণে মা ও শিশুর মৃত্যু হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, খিচুনি ও শিশুর জন্মকালীন শ্বাস কষ্ট অন্যতম। এক তৃতীয়াংশ মায়ের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। আর ২০ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয় খিঁচুনিতে। গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কিংবা খিচুনি হলে বাড়িতে বসে থাকা যাবে না। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিতে হবে।

গর্ভবতীকে হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রে তিন ধরণের বিলম্বে মা ও শিশুর মৃত্যু হতে পারে। যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি, কিভাবে হাসপাতালে নেয়া হবে, সেটি নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত এবং হাসপাতালে নেয়ার পর নরমাল ডেলিভারি না হলে দ্রুত সিজারিয়ানের উপযুক্ত হাসপাতাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের নিশ্চিতকরণে দেরি হওয়া।

পরিবার পরিকল্পনা সমিতির (পিকেএস) সূর্যের হাসি ক্লিনিক প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ফরিদাতুন নাহার বলেন, ইউএসএইডের সহযোগিতায় খুলনা বিভাগের ৬টি জেলায় সূর্যের হাসি ক্লিনিকে মা ও শিশুদের স্বাস্থ সেবা প্রদান করা হচ্ছে ২৬ টি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হয়। এই প্রকল্পের উপকারভোগী প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে ৪ লাখ ৮৩ হাজার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মা ও শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে ১৯৯৭ সাল থেকে নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। পিকেএস সূর্যের হাসি ক্লিনিকে অল্প খরচে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।

XS
SM
MD
LG