অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চীন, পাকিস্তানে চার হাজার কোটিরও বেশী ডলারের প্রকল্পে সহায়তা দেবে


চীনের প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং আগামী সপ্তাহে পাকিস্তান সফর করবেন। তাঁর সফরকালে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জ্বালানী খাতে কিছু চুক্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং চীন, পাকিস্তানে চার হাজার কোটিরও বেশী ডলারের ওই সব প্রকল্পে পাকিস্তানকে সাহায্য-সহায়তা দেবে। উল্লেখ করা যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ২০০৯ সাল থেকে পাকিস্তানকে অসামরিক খাতে ৫শো কোটি ডলার দিয়েছে।

এ সম্পর্কে বেজিং থেকে ভয়েস অফ আমেরিকার বিল আইডের রিপোর্ট বিস্তারিত শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার ও সেলিম হোসেন

গত নয় বছরের মধ্যে চীনের কোন প্রেসিডেন্টের এ হচ্ছে প্রথম পাকিস্তান সফর। চীনা সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও বলেছেন, চলতি বছরে এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর এবং এ থেকে বোঝা যায় যে বেজিং, চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়নকে কতখানি গুরুত্ব দেয়। লিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট শি’র সফরে ‘পাকিস্তান-চীন সম্পর্কের এক ব্যাপক পরিকল্পনা এবং আগামী ১০ বছরে যে সহযোগিতা গড়ে উঠবে তার একটা রূপরেখা প্রনয়নের চেষ্টা করা হবে। এবং দুদেশের সম্পর্ক এক নতুন পর্যায়ে এগিয়ে যাবে’।

এই সফরকালে তারা বিশাল এক প্রকল্প যাকে বলা হচ্ছে পাকিস্তান-চীন অর্থনৈতিক যোগাযোগ পথ সেই চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এই সড়ক চীনের প্রত্যন্ত নিরিবিলি অঞ্চল শিনজিয়াং এর সঙ্গে পাকিস্তানের আরব সাগরবর্তী গোয়াদার বন্দরকে যুক্ত করবে। এই সব প্রকল্পে ৪ হাজার ৬শো কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। পাকিস্তানের দুস্থ অর্থনীতির জন্য এ এক বিরাট পরিমাণ অর্থ।

পাকিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফর দুটি দেশের মধ্যে বৈশ্বিক সামরিক সম্পর্ক থেকে ভিন্নতর নতুন ধরণের এক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আর সেইসঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্কও গভীর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে তো দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। বেজিং পাকিস্তানকে সবচাইতে বেশী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকে। এই তো সদ্য জানা গেছে যে ইসলামাবাদ চীনের কাছ থেকে ৮টি সাবমেরিন কেনার চেষ্টা করছে। আর সেটা যদি সত্যি হয়, তা হলে তা হবে ইসলামাবাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নতুন দিল্লীর বিপক্ষে পাকিস্তানের এক বিরাট সম্ভার। ঠিক তাই।

এদিকে, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের অস্থিরতায় চীনা কতৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। আমরা জানি সেখানে সংখ্যালঘু উইঘোর মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। আর ওই সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে অনেক আগে থেকে তারা পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ কামনা করে আসছিল।

সমালোচকরা বলছেন চীনের সরকারের পক্ষ থেকে উইঘোর সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর চাপিয়ে দেয়া সীমাবদ্ধতা সেখানে সংঘাতকে উস্কে দেয়। তবে বেইজিং এর তরফ থেকে শিনজিয়াং অঞ্চলের এবং চীনের অন্যান্য অংশে সংঘাত সংঘর্ষ বা অস্থিরতার জন্যে পাকিস্তান আফগান সীমান্ত এলাকার আদিবাসি সম্প্রদায়কে দায়ী করা হয়।

চীনের সহকারী পররাস্ট্রমন্ত্রী লিউ জিয়াংচাও বলেছেন পাকিস্তান চীনকে গোয়েন্দা সহায়তা সহ অন্যান্য নানা ভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে, সন্ত্রাসী দলসমূহের মোকাবেলা করতে। উদাহারনস্বরূপ জিয়াংচাও পূর্ব তুর্কমেনিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট বা ETIM এর নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন পাকিস্তানে ঐ দলের অনেক সদস্য রয়েছে।

লিউ বলেন ETIM দুই দেশেরই শত্রু এবং এই দুই দেশ সন্ত্রাস মোকাবেলায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যহত রাখবে, বিশেষ করে ETIM এর মতো দলকে রুখতে। তিনি বলেন সন্ত্রাস দমন আমাদের দুই দেশেরই বড় স্বার্থ।

চীন ও পাকিস্তান তাদের অর্থনৈতিক সহযোতিা বিস্তৃত করতে যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তখন নিরপত্তা বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী আক্রমনের ঘটনা একটি পুরোনো বিষয়। পাকিস্তান তাদের উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত চীনের শ্রমিকদেরকে নিরাপত্তা দিতে ১২ হাজার নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করবে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবেলায় সহায়তা করাও চীনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, বললেন সিঙ্গাপুরের এস রাজাতনাম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল ষ্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক হু তিয়াং বুন।

“ধারনাটি হচ্ছে তারা পাকিস্তানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। আর যদি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে, তা সন্ত্রাস দমনে দারুন সহায়ক হবে”।

হু বলেন সেটি দুই সরকারের বড় পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনা কতোটা বাস্তবায়িত হবে তা এখন দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

XS
SM
MD
LG