অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদ টিকবে না: জন ওউয়েন


হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে জন ওউয়েন

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনে জন ওউয়েন

পশ্চিমা বিশ্ব কিভাবে রাজনৈতিক ইসলামকে মোকাবেলা করবে, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জন এম ওউয়েন, তাঁর ‘কনফ্রন্টিং ইসলাম: সিক্স লেসেনস ফ্রম দ্যা ওয়েস্ট’স পাস্ট’ বইতে। যুক্তরাস্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বইটি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে লেখক জন ওউয়েন তুলে ধরেন বইতে উল্লেখ করা বিভিন্ন বিষয়। সেলিম হোসেন ছিলেন অনুষ্ঠানে। শোনা যাক তার কাছে।

বইটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জন এম ওউয়েন বললেন পশ্চিমী বিশ্বের ইতিহাসে ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা, বহুজাতিক আদর্শের সংগ্রাম, নেতৃত্বের সংঘাত, ইত্যাদির ন্যায় বর্তমান বিশ্বে কিভাবে ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটেছে সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন বইটিতে।

“আমি শুরু করতে চাই এই বলে যে ইসলামী জঙ্গীবাদ হচ্ছে বিস্তৃত একটি বিষয় যেমনটি আমরা অতীতের পশ্চিমা ইতিহাসেও দেখেছি- যাকে আমি বলি বহুজাতিক আদর্শগত সংঘাত-সমাজকে নেতৃত্বদানের প্রতিযোগিতা”।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ‘আরব বসন্তকে’ তিনি তুলনা করেন প্রায় দেড়শ বছর আগের ইউরোপীয়ন অভ্যুত্থানের সঙ্গে।

“বর্তমানে ইসলামী চরমপন্থা অবলম্বনকারীরা যা করছেন তার সঙ্গে অতীত ইউরেপীয়ন ইতিহাসের মিল রয়েছে। আরব বসন্ত মূলত ১৮৪৮ সালের ইউররোপীয়ন অভ্যুত্থানের মতোই। মধ্যপ্রাচ্য ৩০ বছরের যুদ্ধে নিপতিত হয়েছে”।

কনফ্রন্টিং ইসলাম বই এর মূল বক্তব্য বলতে গিয়ে জন ওউয়েন বলেন; "সংক্ষিপ্তভাবে বইটির মূল ম্যাসেজ বলতে গেলে মার্ক টোয়েনের উক্তি বলতে হয় যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় না, তা ছন্দিদ হয়। অনুরূপ চিত্র দেখা যাচ্ছে গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে”।

ওউয়েন বলেন মধ্যপ্রাচ্যে মূলত সংগ্রাম শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের পর। মুস্তাফির আধুনিক তুরস্কের সৃষ্টি, ইরানে রেজা শাহ, মিশরে নাসারসহ সে সময় ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠি ঐতিহ্যবাহী ইসলামী প্রতিষ্ঠান, শরীয়া ও ইসলামী আইন প্রত্যাখ্যান করেন। আর তাদের প্রতিপক্ষ শক্তি হয়ে গড়ে ওঠে মুসলিম ব্রদারহুডের ন্যায় চরমপন্থী ইসলামি শক্তি।

“১৯২৮ সালে মিশরে হাসান আল বানা প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম ব্রাদারহুড। তারা কোরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী সমাজ চলবে বলে ঘোষণা করে। ইরানেও একই রকম ভাবে চরম ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর অভ্যুদয় ঘটে। শুরু হয় ইসলামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠির দ্বন্দ্ব। গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এ দ্বন্দ্ব চরম আকার রূপ নেয় যাতে ধর্মনিরপেক্ষদের চেয়ে ইসলামপন্থী উগ্র জঙ্গীবাদীরা শক্তিশালি হয়ে ওঠে। এক সময় তাদের নিজেদের মধ্যকার বিভিন্ন দলের মধ্যে শুরু হয় অন্তর্কলহ যা চলছে এখনো”।

তিনি বলেন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অবস্থা পশ্চিম ইউরোপের অতীতের অস্থিতিশীল অবস্থার পুনরাবৃত্তি নয় কিন্তু মিল রয়েছে।

“ইউরোপে যেমন সংগ্রাম, বিদ্রোহ বিদেশী হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল যার ঠিক পুনরাবৃত্তি নয় কিন্তু অনুরূপ চিত্র দেখা যাচ্ছে গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে”।

তিনি বলেন বৈধতার সংকট, আদর্শের সংগ্রাম, বিদেশী হস্তক্ষেষপ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, বহুজাতিক আদর্শগত দ্বন্দ্ব বিদ্রোহ, এর সবই চলছে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে; যার শুরু চরমপর্ন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠি আর ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সংঘাতের মধ্য দিয়ে।

“এভাবেই একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামী মৌলবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠির সংঘাত শুরু হয় যার ফলশ্রুতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি দুর্বল হয় এবং ইসলামপন্থী জঙ্গীবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে”।

দক্ষিন এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থানের কোন সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন তিনি আশা করেন জঙ্গীবাদ বিরোধী শক্তির কাছে তারা টিকতে পারবে না।

“আমি আশা রাখি বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ বিরোধী শক্তি ইসলামী জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে। আমার একই আশাবাদ পুরো দক্ষিন এশিয়ার বেলাতেও”।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলে লিসা কার্টিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে, আগতদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন লেখক জন ওউয়েন। বাংলাদেশ বিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন বাংলাদেশের এই মুহুর্তের অবস্থা খারাপ যা সেখানে ইসলামী জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিতে পারে। তবে তিনি আশা করেন সরকার ও সমাজের সচেতন অংশ তা হতে দেবে না। পাকিস্তানের স্কুলে গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন।

XS
SM
MD
LG