অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শাহবাগ চত্বরের সঙ্গে একাত্মতায় ওয়াশিংটনের দৃষ্টিপাত


ওয়াশিংটন ডিসি তে শাহবাগ সমাবেশের সঙ্গে দৃষ্টাপাতের একাত্মতা ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসি তে শাহবাগ সমাবেশের সঙ্গে দৃষ্টাপাতের একাত্মতা ঘোষণা

ঢাকার শাহবাগ চত্বরে যে জনসমাবেশ ঘটেছে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে , তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তরুণদের সংগঠন দৃষ্টিপাত , ডিসি চ্যাপ্টার । তারা ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে সমবেত হয়েছিল এই সপ্তাহান্তে। সুরে সুরে শুরু হলো , শাহবাগ চত্বরের প্রতি একাত্মতা প্রকাশের জন্যে দৃষ্টিপাত ডিসি’র অনুষ্ঠান ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে। ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক মতবাদের ঊর্ধ্বে উঠে , সকল বয়সের মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিল এক দফা, এক দাবি নিয়ে , আর সেটি হলো রাজাকারের ফাঁসির দাবি।

ওয়াশিংটনে তখন হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি নীচে তাপমাত্রা। কিন্তু এই হিমেল পরিবেশকে ঊষ্ণ করেছিল গানে , শ্লোগানে , মুখরিত সময় । প্রতিকুল আবহাওয়াকে অবজ্ঞা করেই সমবেত হয়েছিলেন , নারী পুরুষ , তরুণ তরুণী , এমন কী শিশুরাও । তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন দৃষ্টিপাতের ডিসি চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া আফরিন । সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাদিয়া বলেন যে আমরা এখানে কেবল ব্যক্তিবিশেষের মৃত্যুদন্ড দাবি করছি না , সেটা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য আরও অনেক ব্যাপক । আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তারা গত ৪২ বছর ধরে বিচার থেকে অব্যাহতি পেয়ে এসছে । কিন্তু এখন আর এটা চলতে দেওয়া যায় না। সুতরাং আমরা এখানে সমবেত হয়েছি ন্যায় বিচারের দাবিতে , আইন থেকে ছাড়া পাওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ হতেই হবে।

দশম শ্রেনীর ছাত্রী ওয়াদিয়া মাহজাবিন , যার জন্ম এই যুক্তরাষ্ট্রেই , আমাদের বলছিল যে সে ১৯৭১ সালের সেই মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছে , শুনেছে তিরিশ লক্ষ লোক শহীদ হবার কথা , শুনেছে লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হানির কথা । সে জন্যেই সেও ন্যায় বিচার দাবির এই সমাবেশে সমবেত হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মেরই আরেকজন , রীম , যার জন্ম দেশের বাইরে , থাকেন ওয়াশিংটনে , দৃষ্টিপাতের এই সমাবেশে এসে একাত্মতা প্রকাশ করলেন ।

তারুণ্যের এই সমাবেশ উদ্বুদ্ধ বোধ করছেন বয়স্ক মানুষরাও । আলাউদ্দিন আহমেদ বললেন যে নতুন প্রজন্মের এই উদ্দীপনায় তিনি সার্থক বোধ করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর দীর্ঘ দিনের পর যুদ্ধাপরাধী ও মানবাতাবিরোধীদের না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভার্জিনিয়াবাসী সাবরিনা শর্মি , তবে আশা করেন যে এই পর্বটি শিগগিরই সম্পন্ন হবে। তাঁরই সুরে সুর মিলিয়ে এই ওয়াশিংটন বাসী মৌটুসি বলছিলেন যে বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতি , সহিংসতার সংস্কৃতি নয় , বাংলাদেশের মানুষ যা চায় তা হলো ন্যায় বিচার। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ও কর্তব্য স্থির থাকলে , বিজয় সম্পর্কে মৌটুসী আশা প্রকাশ করলেন । মূহুমুর্হু শ্লোগানে গানে মুখরিত ছিল সেদিনের ওয়াশিংটনের ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভ ।

XS
SM
MD
LG