অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীফ-উল-হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়- ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

জন্মের আদি থেকে এখন পর্যন্ত সভ্যতার এক একটি স্তর নারী-পুরুষ হাতে হাত রেখে পার হয়েছে। নারীর গর্ভ থেকে যে সৃষ্টিশীলতার শুরু সেই সৃষ্টি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে। কিন্তু সমাজের অশিক্ষা, ধর্মীয় গোড়ামি সহ নানা কারনে নারীর প্রতি প্রায় সময় অবিচার করা হয়। তাই মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৬০ সাল থেকে ২৫শে নভেম্বর বিশ্বব্যাপি ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বর্জন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে ।
সরকারী বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নূরজাহান বেগম বললেন, “২৫শে নভেম্বর দিনটি শুধুমাত্র একটি প্রতিকী দিন হিসেবে পালন করা হয়। একদিনের জন্য নয় সারা বছর ধরে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আমাদের কাজ করতে হবে। পরিবার থেকে প্রথমে শুরু করতে হবে এই কাজ। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টাতে হবে নারীর প্রতি”।

একটা সময় বাংলাদেশে নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে বৈষম্যের জায়গাটা অনেক প্রকট ছিল। বাংলাদেশ এখনও শতভাগ শিক্ষিতের হার নিশ্চিত করতে পারে নি, তাই সমাজের কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ রয়েই গেছে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় কিছু কিছু দৃষ্টিভঙ্গীর সমস্যা এখনও দেখা যায়। ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের দাবীতে হত্যা, কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন- এই সমস্যা গুলো এখনও আমাদের ভাবনার কারণ। নতুন প্রজন্মের সবার এক কথা- নারীর প্রতি সহিংসতা আর নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পূরবী হাসান বললেন, “যারা নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে আর কেউ এই ধরনের কাজ করতে সাহস পাবে না”। আমিনুর রহমান, একজন চাকুরীজীবি। তাঁর মতে যারা সহিংস আচরন করে তাদের মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। সেই সাথে শিক্ষার অভাবের কথাও বললেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর একজন শিক্ষার্থী রবিন বললেন, নতুন প্রজন্মের সবাই একটি সুন্দর, ধর্মীয় গোঁড়ামি মুক্ত বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের প্রত্যয় তাদের সবার।

তবে অবস্থা পুরোপুরি না পাল্টালেও ইতিবাচক দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান নারীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক, সামরিক বাহিনীতে অর্ন্তভুক্তি, বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্ষুদ্র ঋণ এর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রয়াস এরই মধ্যে সাফল্যের দাবী রাখে। বাংলাদেশে নারীরা আজ স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল।
প্রফেসর নূরজাহান বেগম আরো বললেন, ধর্মে কোথাও নারীদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। বাংলাদেশীর নারীদের সাফল্যের প্রচন্ড শক্তি রয়েছে। শুধু তাদের যদি সুযোগ দেয়া যায় তাহলে তাঁরা তাঁদের নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

নারী পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। একজনের সাহায্য ছাড়া অন্যের পথচলা প্রায় অসম্ভব। তাই আমাদের সবার উচিত নারীকে তার যোগ্যতা ও কাজ দিয়ে বিচার করা। হাতে হাত ধরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলা। আমাদের বাংলাদেশ আমরাই গড়বো একসাথে সবাই। যেখানে কোন সাম্প্রদায়ীকতা থাকবে না। থাকবে না কারো প্রতি কোন অন্যায় আচরণ।

XS
SM
MD
LG