অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব এইডস দিবস ২০১৩’র অঙ্গীকার; সংক্রমণ, বৈষম্য ও মৃত্যু নয়: এইডস করবো জয়


ডঃ সামিনা চৌধুরী

ডঃ সামিনা চৌধুরী

আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

পহেলা ডিসেম্বর। বিশ্ব এইডস দিবস৷ এইচআইভি সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট এইডস সম্পর্কে গোটা বিশ্বে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র এক ঘোষণায় ১৯৮৮ সাল থেকে এই দিবস পালন শুরু হয়। ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে সারা বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে৷ আর এইচআইভি’র নতুন সংক্রমণ, এইচআইভি সংক্রমিতদের প্রতি বৈষম্য এবং এইডস’এর কারণে মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে অদূর ভবিষ্যতে একটি এইডসমুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন দেখার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড এইডস ক্যাম্পেইন ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ব এইডস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- Getting to Zero অর্থাত শূন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিবারের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা আয়োজনে বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

ইউএনএইডস’র সর্বশেষ তথ্য মতে, বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার শুন্য দশমিক এক শতাংশেরও কম, যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই হার শূন্য দশমিক তিন শতাংশ এবং মায়ানমারে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশেরও বেশি । এই সংখ্যা ইউএসএআইডিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত কর্মসূচীগুলোর সাফল্যের প্রতিফলনও বটে। কিন্তু সংক্রমণের এই হার ও আক্রান্তের সংখ্যা দেখে সন্তুষ্টির কোন সুযোগ নেই। কারণ উচ্চমাত্রায় আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তপথ, মানব পাচার, সুঁইয়ের মাধ্যমে শিরায় মাদক গ্রহণ, পেশাভিত্তিক যৌনকর্ম, এইচআইভি বিষয়ে ভুল ধারণা, অসচেতনতাসহ দ্রুতহারে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সমস্ত কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বাংলাদেশে বিদ্যমান রয়েছে। সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণের এই হার ধরে রাখা সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে ইউএসএআইডি’র জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ঝুঁকি আমাদের জনসা্ধারণের মধ্যে রয়ে গেছে। কিছু পকেট রয়েছে যেখানে ঝুঁকিগুলো বাড়ছে। যেমন: শিরায় মাদক নেন এমন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে। এরা একই সুঁই ব্যবহার করছে। এদের যৌনসঙ্গীও রয়েছে। এরা আমাদের জনগণরই অংশ। তাই আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাই।

এদিকে যদি কারো এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে, তাহলে সমাজের অনেকেই মনে করেন ঐ ব্যক্তিটি নিশ্চয়ই অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। সব সময় এই ধারণা পোষণ করা বা অপবাদ দেয়া অথবা বৈষম্য করা ঠিক হবে না। সঠিক তথ্য সরবরাহ না থাকার কারণে সংক্রমণের হার বাড়ে উল্লেখ করে সামিনা বলেন, কৈশোর থেকেই এই বিষয়ে তথ্য দিতে হবে। জানাতে হবে শুধু যৌন সম্পর্কের কারণে এইচআইভি ছড়ায় না। পিতা-মাতার কাছ থেকে শিশুর, এমনকি ভালভাবে পরীক্ষা না করে অন্যের রক্ত নেওয়ার কারণেও সংক্রমিত হতে পারে।

এইচআইভি সংক্রমিত বা এইডস রোগীরও রয়েছে স্বাভাবিক জীবনের অধিকার। তাকে উপেক্ষা না করে সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আমাদেরই সেই অধিকার রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। তাই এবারের বিশ্ব এইডস দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক- সংক্রমণ, বৈষম্য ও মৃত্যু নয়: এইডস করবো জয়।
XS
SM
MD
LG