অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে উগ্রবাদী আক্রমণ : প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

  • আনিস আহমেদ

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা নতুন কিছু নয় । বার বার সেই দেশটি উগ্রপন্থিদের হামলায় ক্ষত বিক্ষত হয়েছে। তবে ১৬ই ডিসেম্বরের সর্বসাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় হতবাক বিশ্ব , হতবাক খোদ পাকিস্তানিরাও। নৃশংস ভাবে শতাধিক স্কুল ছাত্রদের হত্যা করার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানের তালিবান , বা যাকে বলা হয় , তেহরিকে তালিবানে পাকিস্তান বা টিটিপি। পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরে উগ্রবাদের কবলে প্রায় বন্দী হয়ে পড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসীদের হামলা শিকার হচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী পরিচালনাধীন এই স্কুলে তালিবানী হামলার আগেই এক পরিসংখ্যানে দেখা দিচ্ছে যে ২০১৪ সালের প্রথম মাসেই অর্থাৎ জানুয়ারী মাসেই জঙ্গি হামলায় অন্তত ৪৬০প্রাণ হারিয়েছে , যার মধ্যে ২৪১ জন অসামরিক নাগরিক, ৮৬ জন নিরাপত্তা বাহিনীর লোক এবং ১৩৩ জন জঙ্গি। পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যা ও প্রচুর। কিন্তু পাকিস্তান এবং এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কি ভাবে আসতে পারে , জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী , যারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেও প্রচুর সহায়তা পেয়েছে কেন ব্যর্থ হচ্ছে? এর রাজনৈতিক তাৎপর্যটাই বা কি ? এসব জিজ্ঞাসা নিয়েই আজকের এই আলোচনা চক্রে এই মূহুর্তে আমার সঙ্গে টেলি-সম্মিলনী লাইনে রয়েছেন ঢাকা থেকে নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষক অবসর প্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইশফাক এলাহী চৌধুরী এবং পাকিস্তানের করাচী থেকে রয়েছেন , রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার মাশকাওয়াত আহসান।

পাকিস্তানে আমরা জানি , এ ঘটনার পর গোটা দেশ নড়ে চড়ে বসেছে , খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ বলেছেন যে ভালো তালিবান ও খারাপ তালিবানের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হবে না , এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও এরই মধ্যে মারাত্মক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুর পরোয়ানায় সই করেছেন। কিন্তু একটা কথা বলা হয় যে পাকিস্তানে সর্ষের মধ্যেই ভুত আছে । তা হলে কি সত্যি সত্যিই সম্ভব হবে পাকিস্তানকে জঙ্গিমুক্ত করা ? কারণ প্রশ্ন উঠছে এই সব জঙ্গির সঙ্গে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের সম্পৃক্ততার, সেই সঙ্গে পাকিস্তানের কোন কোন রাজনৈতিক দলেরও সম্পৃক্ততার কথা। অভিযোগ আছে তাহরিকে ইনসাফ পার্টির ইমরান খান নিজেও তালিবানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে ছিলেন এমন কী টিটিপিকে , ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহরের কথা ও শোনা যায়।

পাকিস্তান বরাবর জঙ্গি হামলার জন্যে প্রতিবেশি আফগানিস্তান কিংবা ভারতকে দায়ী করে এসছে। এমনকী পাকিস্তানের ভেতরে জঙ্গি হামলার পর পরই মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার প্রধান হোতা জাকিউর রহমান লাখভিকে সেখানকার সন্ত্রাস বিরোধী আদালতের জামিন মঞ্জুর অনেকের কাছেই পরিহাসের মতোই মনে হয়েছে। যদি ও শেষ পর্যন্ত সরকার উচ্চতর আদালতে আপিল করার কথা বলেছেন । আজই লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় পাকিস্তানের মানবাধিকার বিষয়ক কৌসুলী আসমা জাহাঙ্গির লিখেছেন সন্ত্রাস দমনের জন্যে পাকিস্তানি শাসকদের সত্যিকার অর্থে প্রত্যয়ী হতে হবে । হয়ত বাধ্য হয়েই তাদের মধ্যে এই প্রত্যয় আসতে । তবে সব চেয়ে বড় কথা হলো , সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তান এক জোট হয়ে কাজ করবে কি ?

এসব জিজ্ঞাসা নিয়েই আজকের এই আলোচনা চক্রে এই মূহুর্তে আমার সঙ্গে টেলি-সম্মিলনী লাইনে রয়েছেন ঢাকা থেকে নিরাপত্তা বিষয়ক বিশ্লেষক অবসর প্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইশফাক এলাহী চৌধুরী এবং পাকিস্তানের করাচী থেকে রয়েছেন , রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার মাশকাওয়াত আহসান।

XS
SM
MD
LG