অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থিদের বিতর্ক নিয়ে আলোচনা চক্র


গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দু জন পদপ্রার্থী ডেমক্র্যাট দলের হিলারি ক্লিন্টন এবং রিপাবলিকান দলের ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চূড়ান্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হলো । এই বিতর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমাদের স্টুডিওতে একটি আলোচনা চক্র । সঞ্চালন করছেন , আনিস আহমেদ :

নির্বাচনে প্রথা অনুযায়ী ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থিদের মধ্যে চূড়ান্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল লাস ভেগাসে গতকাল রাতে । এই বিতর্কের নানান দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আজ স্টুডিওতে আমার সঙ্গে রয়েছেন শাগুফতাহ নাসরিন কুইন এবং নিউ ইয়র্ক থেকে টেলিফোনে যোগ দিয়েছেন , প্রবীণ সাংবাদিক ও সংবাদ বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মাদুল্লাহ।

আমরা জানি যে বেশ কিছুদিন ধরেই রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থি ডনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন যে এই নির্বাচনে কারচুপি হবে। নির্বাচনের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন কি না , এ রকম প্রশ্নের জবাবে গতরাতে ট্রাম্প কোন সরাসরি জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। লক্ষ্য করার বিষয় তিনি মিডিয়াকেও দোষারোপ করছেন পক্ষপাতিত্বের জন্য । অন্য দিকে হিলারি ক্লিন্টন , ট্রাম্পের এই কারচুপির অভিযোগ সম্পর্কে বলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখছেন। এ রকম ঘটনা আগে ঘটেনি কখনও। ট্রাম্প অবশ্য বুশ গোরের নির্বাচনে , প্রথম দিকে গোরের আপত্তির প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। এবারকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই দ্বিধা এ রকম আভাষ দিচ্ছে যে নির্বাচনে ট্রাম্প যদি হেরে যান তা হলে হয়ত তিনি ফলাফল মেনে নেবেন না । সৈয়দ মোহাম্মদুল্লাহও মনে করেন এই নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে মি ট্রাম্প নিজেই যেন সন্দিহান ।

শাগুফতাহ নাসরিন কুইন বলেন ট্রাম্পেরই রানিং মেইট , নির্বাচনী জুটি , রিপাবলিকান দল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থি মাইক পেন্স বলেছিলেন , নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন , তা তারা মেনে নেবেন। কেবল এটাই নয় নিজের নির্বাচনী জুটির সঙ্গে ট্রাম্পের একাধিক ব্যাপারেও মতানৈক্য ও রয়েছে । বিষয়টা খানিকটা ব্যতিক্রমী। তবে শাগুফতাহ বলছেন অতি সম্প্রতি আবার নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে পেন্স , ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন।

এবারকার বিতর্কেও অনেক বিশ্লেষকের মনে হয়েছে যে ট্রাম্প যেন আত্মরক্ষা মূলক কৌশল গ্রহণ করেছিলেন । অন্যদিকে হিলারি ক্লিন্টন সম্পর্কে যে সব অভিযোগ বিশেষত তাঁর ইমেইল বিষয়ক অভিযোগ , সেই অভিযোগ খন্ডন করার কোন সরাসরি চেষ্টা হিলারি করেননি । তিনি বরঞ্চ সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে রাশিয়া যে এবারকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে , হ্যাকিং এ মাধ্যমে এ কথাটাকেই প্রতিপাদ্য করে তুলেছেন। বিতর্কের এই বিপরীতমুখী দিকটি উল্লেখযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন সৈয়দ মোহাম্মাদুল্লাহ

শাগুফতাহ বললেন একটা খুবই ব্যতিক্রমী দিক হচ্ছে যে রিপাবলিকান প্রার্থিদের মধ্যে ট্রাম্পই হচ্ছেন ব্যতিক্রমি , যিনি রাশিয়ার প্রতি অনেকখানি নমনীয় ভাব পোষণ করেন । ট্রাম্পের এই রুশ প্রীতি রিপাবলিকানরা খুব ভালো ভাবে নেবেন বলে মনে হয় না।

আরেকটি দিক হলো হিলারি ক্লিন্টনের আরও যে কিছু বিতর্কিত বিষয় ছিল , যেমন ধরুন লিবিয়ায় যথা সময়ে পদক্ষেপ নিতে তাঁর ব্যর্থতা কিংবা ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে সমর্থন জানানো এসব বিষয় ট্রাম্প তাঁর যুক্তি সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন

শাগুফতাহ বলেন অনেকেই বলছেন যে প্রথম চল্লিশ মিনিট ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য অনেকটা সংযত ভাবেই উপস্থাপন করেছেন কিন্তু পরের দিকে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন । হিলারি ক্লিন্টনের বক্তব্যের মাঝখানে কথা বলার চেষ্টা করেছেন , এমন কি হিলারি ক্লিন্টনকে , তিনি , তাঁর কথায় Nasty Woman বলে বর্ণনা করেছেন। এই যে ব্যক্তিগত আক্রমণ কেবল নারী সমাজকে নয় , সকলকেই আহত করেছে প্রচন্ড ভাবে।

XS
SM
MD
LG