অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতীয় যুব দিবস-২০১৫ ।


জাতীয় যুব দিবস-২০১৫ ।
টাঙ্গাইলের সারিয়াবহ গ্রামের সুমী । বাবা অসুস্থ । কিন্তু সুমীর লেখাপড়া করার খুব ইচ্ছা যা টানাটানির সংসারে সম্ভব না । অভাব থাকা স্বত্তেও মাত্র ছয়শ টাকায় মায়ের কিনে দেয়া একটি ছাগল দিয়ে নিজ চেষ্টায় যাত্রা শুরু করে আজ সে হাল ধরেছে সংসারের । দাঁড়িয়ে গেছে ছোটখাট ছাগলের খামার । লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সাথে সাথে বাবার চিকিৎসা এবং সংসারের অভাব দূর করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেছে সুমী । চাকুরীর পিছনে না ঘুড়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে প্রতিষ্ঠিত হবার সুন্দর উদাহরন এই সুমী ।


বাংলাদেশে প্রতিবছর মাত্র ১২ লাখেরও কম কর্মসংস্থানের সুযোগের বিপরীতে দেশের শ্রমবাজারে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাটা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২২ লাখ । দেশের সীমিত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা অসম্ভবই বলা চলে, প্রতিবছর এই ২২ লাখ মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করা ।

ইকবাল বাহার,যিনি নিজে প্রথমে শিখেছেন তারপর উদ্যোক্তা হয়ে দাঁড় করিয়েছেন অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন,যেখানে কাজের সুযোগ তৈরী হয়েছে অনেকের । প্রথম জীবনে তিনি যখন চাকরি করতেন,তিনি ভাবতেন তার অনেক কিছু করার আছে । বিভিন্ন সেক্টরে তিনি নিজেকে বিকশিত করতে পারবেন এবং শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয় পাশাপাশি দেশের মেধাবী যুবকদের কাজের ব্যবস্থা করতে চেয়েছেন । এবং সবার উদ্দেশ্যে সবসময় তিনি বলেন,চেষ্টা এবং সাহস থাকলে যেকোন কাজে সফলতা অর্জন দুরহ কিছু নয় । দরকার কাজকে সম্মান করা এবং লেগে থাকা ।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তেরের তথ্যানুযায়ী,গত ছয় বছরে ১৪ লাখ যুবক প্রশিক্ষণ গ্রহন করে মাত্র ৪ লাখের মত কাজের সুযোগ তৈরী করতে পেরেছে । এর পেছনে কারণ হিসেবে ,প্রশিক্ষণের পর ঋণের অপর্যাপ্ততাই প্রধান হিসেবে সামনে চলে আসছে । এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ১লা নভেম্বর পালিত হল ‘জাতীয় যুব দিবস-২০১৫’ । যুব দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘জেগেছে যুব, জেগেছে দেশ-লক্ষ্য ২০৪১ এ উন্নত বাংলাদেশ ’।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে । মূল আয়োজন রমনা বটমূলে ৭ দিনব্যাপী যুব মেলায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কর্মই জীবন এই বিষয়টিকে । ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষিত যুবক ও যুবমহিলাদের মধ্য থেকে আত্মকর্মসস্থান প্রকল্প স্থাপনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১২ জন সফল আত্মকর্মী ও ৩ জন সফল যুবসংগঠকসহ মোট ১৫ জনকে এ বছর জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে ।
মাননীয় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেন, বাংলাদেশ যেমন এমডিজিতে সাফল্য অর্জন করেছে তেমনি এসডিজিতেও সাফল্য সম্ভব যদি যুবদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা যায় । দেশের অগ্রগতির সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহনে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন যুব সমাজকে । জাতীয় যুব কেন্দ্রটিকে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে জাতীয় যুবনীতি ২০১৫ বর্তমানে চূড়ান্তকরণের পর্যায় রয়েছে বলে তিনি জানান । যুবসমাজ ও যুবসংগঠনসমূহের দীর্ঘদিনের দাবিপূরণের লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে যুবসংগঠনসমূহের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে আইনও প্রণীত হয়েছে । তার আশা আমাদের প্রতিশ্রুতিশীল যুব সমাজ একদিন বদলে দেবে বাংলাদশের চেহারা ।

শরীফ উল হক ।
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার ।
সহযোগিতায় – ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অব আমেরিকা ।


XS
SM
MD
LG