অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০১৩: আমার হাতেই আমার সুস্বাস্থ্য


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০১৩। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “আমার হাতেই আমার সুস্বাস্থ্য”।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের সূচনা খুব বেশি দিন আগের নয়। সুইডেনের স্টকহোমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মোর্চা ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফর হ্যান্ডওয়াশিং’ সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর হাত ধোয়া দিবসটি পালন করে। প্রথমে স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ ক্যাম্পেইনের মূল টার্গেট হলেও অল্পকিছু দিনের মধ্যে, বিশ্বজুড়ে সব বয়সী মানুষের মধ্যে প্রতিদিন সঠিক নিয়মে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনাই এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে দিবসটি পালন প্রসঙ্গে ইউনিসেফ’র ওয়াটার এন্ড এনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন সেকশনের ওয়াশ স্পেশালিষ্ট নুজুলী বেগম বলেন, “সারাবিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও এবার ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে ঈদুল আযহা ও পূজার ছুটির কারণে দুই ভাগে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে গত ৬ অক্টোবর ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদ্বোধন করা হয়। আর আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় সারাদেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের একযোগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হবে”।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা আমাদের হাত দিয়ে অসংখ্য কাজ করে থাকি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের হাত অসংখ্য জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, যার ফলে নানা রোগ হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মল হচ্ছে ডায়রিয়ার জীবাণুর প্রধান উৎস। এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারে শিশুদের ডায়রিয়া প্রতিরোধ হয় শতকরা ৩২ ভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষায় ৩২ ভাগ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ২৫ ভাগ আর সঠিক নিয়মে হাত ধুলে ৪৪ ভাগ। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস একটি ভালো ভ্যাকসিনের চেয়েও বেশি কাজ করে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস সহজেই এসব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।
হাত ধোয়াকে একটি সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য অভ্যাস হিসেবে অভিহিত করে নুজুলী বেগম বলেন, “হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে পারলে পানি ও মলবাহিত রোগগুলো সহজেই প্রতিরোধ করতে পারি। আর হাত ধোয়ার নিয়ম আছে। শুধু পানি দিয়ে হাত ধুলে বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার হয় সত্যি, কিন্তু জীবাণুমুক্ত হয় না। জীবাণু প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়। তাই এবার বাংলাদেশের স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একযোগে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া হবে”।
শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, আমাদের সবার উচিত প্রতিদিন সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া ও অন্যদেরও হাত ধোয়ায় উৎসাহিত করা। প্রতিবার খাওয়ার আগে ও পরে তো বটেই যে কোন কাজের পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এতে নানা রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায় সহজেই।
XS
SM
MD
LG