অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এমডিজিকে ঘিরে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে


বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দিন বদলের হাওয়ায় দৃশ্যমান যুগান্তকারী পরিবর্তন। এমডিজিকে ঘিরে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে। শিক্ষায় এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। জাতিসংঘের ঘোষিত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থাগুলোর গৃহীত সমন্বিত পদক্ষেপেই আজকের এই অর্জন।

বিভিন্ন সমস্যাসঙ্কুল এই দেশ কিভাবে পেল শিক্ষার এই সাফল্য? আমরা ইউএসএআইডি বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ,সমাজকর্মী এবং অভিভাবকের সাথে কথা বলে তাই জানার চেষ্টা করেছি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র তথ্যানুযায়ী ২০০৯ সালে দেশে স্বাক্ষরতার হার যেখানে ছিল ৫৮.৪ শতাংশ ২০১৪ সালে তা এসে দাড়িয়েছে ৬১ শতাংশে । শিক্ষিত হবার প্রবণতা উর্দ্ধমুখী...।
বাংলাদেশের শিক্ষার সংখ্যানুপাতিক হার অনেক আশাব্যঞ্জক। আর গুনগত দিক বিবেচনায় নিলে সারা পৃথিবীর মত আমাদেরও মান পরিবর্তনশীল। সৃজনশীল শিক্ষা,তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন সাথে নতুন নতুন বিষয়ে শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি ইত্যাদি পরিবর্তনের সাক্ষী।
ইউএসএআইডি বাংলাদেশের অফিস অব পপুলেশন,হেলথ & নিউট্রিশন বিভাগের এডুকেশন টিম লিডার মোঃ শহীদুল ইসলাম আমাদের বললেন, স্বাক্ষরতা থেকে উচ্চশিক্ষার অগ্রগতি চোখে পড়ার মত।
ইউজিসির ২০১৩ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৩৪টি পাবলিক এবং ৭৮টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ লাখ ২ হাজার ৭০৪ জন।
বর্তমান পৃথিবীর মত বাংলাদেশেও শিক্ষা গ্রহনের পর কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রের অভাবে প্রতিবছরই অনেক তরুন বেকারের খাতায় নাম লেখাতে বাধ্য হচ্ছে। বিপরীতে চাহিদা বাড়ছে কারিগড়ি শিক্ষায়। কারিগড়ি শিক্ষায় শিক্ষিত একজন তরুন খুব সহজেই তার গন্তব্য খুজে পায়।

নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে যা কল্পনাতীত । ২০১৪ সালে জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষায় প্রায় ১১ লাখ আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশ নেয় প্রায় ২৭ লাখ ছাত্রী। এডভোকেট মঞ্জু বললেন, স্কুল থেকে ঝড়ে পরা এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহনে কিছু বাধা রয়ে গেছে এখনো। বাল্যবিবাহ সাথে অনেক মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্রতার যাতাকলে পরে উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশ গ্রহনের সুযোগ অনেক খানি কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতায় এসেছে বাংলাদেশ। নারী শিক্ষা সহজ করতে সরকার চালু করেছে উপবৃত্তি সহ নানা উৎসাহজনক কর্মসূচী । উচ্চশিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে দিতে সমস্যা কিংবা পেশা নির্বাচনে সুযোগ কম - এই সব ধারনা থেকে বের হয়ে আসছেন অভিভাবকরা।
নারী শিক্ষার মুল্য বুঝতে শুরু করেছেন তারা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ,বিরোধদলীয় নেত্রী,জাতীয় সংসদের স্পীকার সহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্ব দিচ্ছে। নারীরা শিক্ষা,সমাজ,পরিবার সব ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে অনেক বেশী তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করেছে। যা একটি শুভ লক্ষণ।

২০১৬ এর ১লা জানুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি। লক্ষ্য ২০৩০।
এমডিজিতে সাফল্যের যাত্রা এসডিজিতেও অব্যাহত রেখে শিক্ষার আলোয় বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলাদেশ, এই স্বপ্ন ছোঁয়ার স্বাধ জাগাটা এখন খুবই বাস্তব।

XS
SM
MD
LG