অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শিশুর পঠন দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।


kids

kids

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ায় স্কুলে যায় না এমন শিশুর সংখ্যা খুব কম। তবে শিশুর পঠন দক্ষতা যথাযথভাবে বাড়ছে না বলে এখনও দেশের প্রারম্ভিক ও প্রাথমিক শিক্ষার মান হতাশাজনকই রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘রুম টু রিড’ এর শিশু শিক্ষার্থীদের বাংলা পঠন দক্ষতা নিয়ে এক রিপোর্টে দেখা গেছে, আমাদের দেশে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠে শিক্ষার্থীরা শব্দ বুঝে উচ্চারণ করে মিনিটে ৩৩টি শব্দের বেশি পড়তে পারে না। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষার এই ধাপে শব্দ বুঝে মাতৃভাষা উচ্চারণ করে পড়তে পারার হার মিনিটে ৪৫ থেকে ৬০টি শব্দ।

প্রারম্ভিক শিক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বুঝে পড়ার দক্ষতা যা শিক্ষার গুণগত মান নির্দেশ করে। তাই সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় শিশু বিকাশ ও শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ কার্যক্রম সিসিমপুর ২০১৪ সাল থেকে নরসিংদীতে শিশুদের সামষ্টিক পঠন (কম্প্রিহেনসিভ রিডিং) দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনী পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বুঝে পড়তে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ‘সিসিমপুর’ এর কর্মসূচী পরিচালক শান্তিময় চাকমা বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর নরসিংদীর রায়পুরা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছি। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উপকরণ ও পড়ানোর কৌশলের উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যাতে শিশুরা স্বাস্থ্য, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বার্তা সহজে বুঝতে পারে। যেমন শিশুদের হাত ধোয়ার গুরুত্ব বোঝাতে কখন ও কেন হাত ধুতে হবে সে বিষয়ে ছবিসহ তথ্য দিচ্ছি।

সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হলেও শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব, উপকরণের অভাবসহ নানা কারণে জাতীয়ভাবে শিশুদের পড়ার দক্ষতা নিয়ে কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এতে শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে সংকট ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এজন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

XS
SM
MD
LG