অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সচেতনতার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।


সচেতনতার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।

সচেতনতার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।

সচেতনতার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব

পৃথিবীর সব দেশেই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুহারের দিক থেকে স্তন ক্যানসারের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। এদেশে প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১৪ হাজার ৮৩৭ জন নারী। এর মধ্যে মারা যান ৭ হাজার ১৪২ জন। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। অথচ একটু সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব।

গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশে পালিত হয়েছে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস। অক্টোবর মাস জুড়েই বাংলাদেশের ৪০টি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন করছে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম। আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল নয়টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রার (পিঙ্ক রোড শো) মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচী শেষ হবে।

ফোরামের সমন্বয়কারী এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের ক্যান্সার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন গ্রামাঞ্চলে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমাদের গ্রামাঞ্চলের নারীরা পর্দাপ্রথা বা লজ্জ্বা সংকোচের কারণে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণগুলো যেমন, স্তনের আশেপাশে পিণ্ড বা চাকা দেখা যাওয়া, আকৃতি পরিবর্তন, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া বা রস নির্গত হওয়া এসব বিষয় আমলে নেন না, ডাক্তারের কাছে যান না, বা পরিবারের সদস্যদেরও বলেন না। এটিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। ইদানিং সচেতনতামূলক কিছু কর্মসূচীর কারণে শহরের নারীরা যারা লেখাপড়া জানেন, তারা পত্রপত্রিকা বা ইন্টারনেট থেকে এ ব্যাপারে সচেতন হচ্ছেন।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করতে ডা. হাবিবুল্লাহ মাসে একবার নারীদের স্তন পরীক্ষা করা ও শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রতি মাসেই একজন নারী নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে পারেন। হাত দিয়ে পরীক্ষার সময় সন্দেহ হলে বাড়ির কাছের হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যাবেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন বা বড় হাসপাতালে আসবেন।

স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। তবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে ডা. হাবিবুল্লাহ বলেন, আমরা চাইলেই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারি। যেমন, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো, চর্বি ও আমিষযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শাকসবজি ফলমূল বেশি খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম করা, যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না তারা ব্যায়াম করলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। যাদের মোটা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাদেরও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

চিকিৎসা সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণের উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে খুব সহজে ক্যান্সার কেন্দ্র করা যায়। মেডিক্যাল কলেজে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়োগ দেয়া যায়। সদর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও আঞ্চলিক কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের হাতের কাছে ক্যান্সার চিকিৎসা নিতে পারলে ক্যান্সার পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হবে।

এমনিতেই আমাদের দেশের নারীরা সহজে চিকিৎসকের কাছে যান না। উপরন্তু স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে অজ্ঞতা, স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসার অভাব, কুসংস্কার, লোক লজ্জ্বা, পুরুষ চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে অনীহাসহ নানা কারণে স্তনের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে চেপে যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলেই চিকিৎসকের কাছে আসা এবং শেষ পর্যায়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে স্তন ক্যান্সারের রোগী প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান। অথচ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিলে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব। তাই নারীদের প্রতি আহ্বান, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের তথ্যগুলো জেনে নিন। সচেতনতার মাধ্যমে নীরব ঘাতক স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করুন।

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

প্রযোজনায় - রেডিও টুডে প্রাইভেট লিমিটেড

XS
SM
MD
LG