অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বাড়াতে পারে এইচআইভির সংক্রমণ


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার কম হলেও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বিদ্যমান থাকায় এর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ কারণেই গত বছরের তুলনায় চলতি বছর, দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৫ সালের মধ্যে এইচআইভি-এইডসকে জয় করতে বাংলাদেশ শূন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও ২০১৩ সালে নতুন করে ৩৭০ জন এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছেন। অথচ ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩৮ জন। সরকারি হিসাবে এই তথ্য দেয়া হলেও ইউএনএইডসসহ বিভিন্ন সংস্থার ধারণা, বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমিতদের সংখ্যা আরো বেশি। কারণ সরকারি তথ্যে রয়েছে, শুধু স্বেচ্ছায় রক্ত পরীক্ষা করতে আসা মানুষের হিসাব।

ইউএনএইডস’র এক পরিসংখ্যান অনুসারে, বাংলাদেশে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুঁই-সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরায় মাদকসেবনকারীরা। এদের মধ্যে এইচআইভি-এইডস সংক্রমণের হার ৫.৩ শতাংশ। যাদের কারণে এইচআইভি ভাইরাস দ্রুত ও নীরবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এ ভাইরাসের সংক্রমণকে বাড়িয়ে দিচ্ছে হিজড়া ও সমকামীসহ যৌনকর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি, কনডম ব্যবহারের নিম্ন হারসহ অনিরাপদ যৌনাচার এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত। প্রতিবেশী এই দেশটিতে এইচআইভি বহনকারীর সংখ্যা ৩৫ লাখ। এছাড়া অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার এবং নেপালেও এইচআইভি সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় ওই দেশগুলোতে যাতায়াতকারীদের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে এসব ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে আমাদের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় নিরাপদ যৌন জীবনের আলোচনাকে খোলামেলা ও যুবসমাজের অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ করে রাখা হয় ৷ ফলে এইচআইভি-এইডস ঝুঁকির বাইরে নন কেউই।

এ প্রসঙ্গে ইউএসএআইডি’র জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ঝুঁকি আমাদের জনসাধারণের মধ্যে রয়ে গেছে। কিছু কিছু পকেট রয়েছে যেখানে ঝুঁকিগুলো বাড়ছে। সরকার নিয়মিত যে গবেষণাগুলো করে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কিছু সদস্যদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় কতজন এইচআইভি পজিটিভ আছেন। এই গবেষণা অনুসারে, শিরায় মাদক নেন এমন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে। এদের যৌনসঙ্গী রয়েছেন। এরা অনেকে মিলে একই সুঁই ব্যবহার করছেন। এরা কোন না কোনভাবে সমাজের অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এরা আমাদের জনগণেরই অংশ। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ি।

বিশেষজ্ঞ সামিনা আরো বলেন, বাংলাদেশে এইচআইভি-এইডস বিষয়ক কর্মসূচীগুলো চলছে প্রকল্পভিত্তিক। সাহায্য সংস্থাগুলোর সাহায্যে চলছে। এটিকে টেকসই করতে মূলধারায় আনতে হবে। তা না হলে প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেলে এইচআইভি ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

এইচআইভি-এইডস এখন আর শুধুই রোগ নয়। এটি বিশ্বব্যাপী সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই এইচআইভি-এইডস যেন বাংলাদেশে মহামারীতে পরিণত না হয় সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এইডস’র বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে অগ্রসর হতে হবে।
XS
SM
MD
LG