অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারীর অগ্রগতিতে লুকিয়ে আছে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়: ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

রংপুরে টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত

নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের কারণে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনও এদেশের নারীসমাজ সমান অধিকারের লক্ষ্যে লড়াই করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মতো বিপুল সম্ভাবনাময় দেশটিকে সকলক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সাফল্য অর্জন করতে হলে এবং মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে দেশের নারীদের সফল করে তোলার বিকল্প নেই। কারণ অর্ধেক জনগোষ্ঠী, নারী সমাজের অগ্রগতি ও সাফল্যের মধ্যে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন লুকিয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক টাউন হল মিটিং-এ এসব কথা উঠে এসেছে।
ভয়েস অফ আমেরিকা ও ইউএসএআইডি বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং রেডিও টুডে’র সহযোগিতায় নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অনুষ্ঠিত এই মিটিং’এ অতিথি বক্তা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা এবং ইউএসএআইডি বাংলাদেশের মিশন ডিরেক্টর ইয়ানিনা ইয়ারুজেলস্কি। ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ও ইউএসএআইডি বাংলাদেশের জেন্ডার উপদেষ্টা মাহমুদা রহমান খান।
বাংলাদেশের নারীরা ইতিমধ্যে আত্মসচেতন, মুক্তির প্রতি অনুরাগী, অঙ্গীকার রক্ষাকারী এবং নানা ঝুঁকি নিয়েও এগিয়ে চলা সৈনিক হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে- এই অভিমত ব্যক্ত করে সুলতানা কামাল বলেন, “নারীর জায়গাটা আসলে কোথায় হবে? সে শুধু ক্ষমতায়িত হয়ে পরিবারের ঘানিই টেনে যাবে? নারীকে যেন বলা হয়, আরো ক্ষমতায়িত হয়ে, কাজ করে, অর্থ উপার্জন করে এবং ঘরে-বাইরে সব সামলিয়ে সামনে নিয়ে যাও দেশটাকে। খুব ভাল কথা, আমরা অত্যন্ত সম্মানিত এই দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে তার সার্বভৌমত্ব কি কেউ চিন্তা করে?”
পুরুষতন্ত্র/ পিতৃতন্ত্র, মৌলবাদ, অসুস্থ রাজনীতি, অসম অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে নারীর অগ্রগতির পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার কৌশল বের করে এগিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মজীনা বলেন, “গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন বা সার্বিক উন্নয়ন করতে চাইলে, তবে অবশ্যই নারী সমাজের উন্নয়ন করতেই হবে”।
ইয়ানিনা ইয়ারুজেলস্কি নারীর সম অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়ে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশটির নারীরা এখনো ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দেশটিকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার দিতে হবে, এবং একটি বলিষ্ট কন্ঠ হিসেবে নারীদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।
রোকেয়া হায়দার ঢাকার বাইরে এমন অনুষ্ঠান আরো আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নসহ যে কোন বিষয়ে সাংবাদিকমহল প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কোন কর্মসূচী করলে তা খুবই ফলপ্রসূ হয়। ঢাকাকেন্দ্রিক হলে সেখানে সবাই পৌছুঁতে পারে না”।
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মভূমিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমধর্মী এই টাউন হল মিটিংয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
XS
SM
MD
LG