অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দরিদ্র মানুষের জন্য ফুড ফর পিস কর্মসূচী


মেথিউ নিমস্
আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

ইউএসএআইডি’র ‘শান্তির জন্য খাদ্য’ কর্মসূচি বা অফিস অফ ফুড ফর পিস বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, দুঃস্থ ও হতদরিদ্র এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচীর লক্ষ্য।

এই কর্মসূচীর মাধ্যমে এদেশের অতিদরিদ্র অঞ্চলগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কমাতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান উন্নত করা, দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করার মাধ্যমে খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচিটি কেয়ার বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল এবং এসিডিআই-ভিওসিএ বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে।

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘ফুড ফর পিস’ অফিসের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশে এর কার্যক্রম প্রসঙ্গে ইউএসএআইডি’র ফুড ফর পিস অফিসের উপ পরিচালক মেথিউ নিমস্ বলেন, বর্তমানে ইউএসএআইডি’র ‘ফুড ফর পিস’ তিনটি ঢাকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। সংস্থাগুলো অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিদ্যমান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানাতে এবং তাদের সেবাগুলো নিতে উদ্বুদ্ধু করছে। একইসঙ্গে আমাদের কর্মসূচীটি স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করছে যাতে সেবাগুলো ভাল বা সুষ্ঠুভাবে দেওয়া যায়।

কর্মসূচীটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুষ্টিগত সমস্যা নির্ণয় ও মোকাবেলায় কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে কি সেবা দরকার তা ঐ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মাধ্যমেই চিহ্নিত করা হয়। এই কর্মসূচী সেবাগুলো দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারের সঙ্গেই কাজ করছে। যেমন মায়ের দুধ খাওয়ানোর নিয়ম, হাত ধোয়ার অভ্যাসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সাধারণ জ্ঞান জনগোষ্ঠীকে শেখানো হয়।

এই কর্মসূচীর মাধ্যমে খাদ্য পরিস্থিতি উন্নয়নে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণগুলো নির্ণয়ে দেশীয় ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করা হয় উল্লেখ করে মেথিউ নিমস্ বলেন, এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন পরিবারে ও সমাজের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আয় বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়। প্রথমে আমরা সরকারের সঙ্গে একযোগে পরিবার ও সমাজের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি খাদ্য সরবরাহ করে। এখন আমরা খাদ্য আনলেও তা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হয় না। বরং বিক্রি করা হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায়। এর ফলে খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি উপার্জন কার্যক্রমেরও ব্যবস্থা করা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘শান্তির জন্য খাদ্য’ কর্মসূচিটি বাংলাদেশে ২০১০ সালের জুন মাসে শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচী ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত চলবে।
XS
SM
MD
LG