অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সাক্ষাতকারে অ্যালিসন বিয়ার: মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গর্বিত অংশীদার ইউএসএআইডি


আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

কম্পিউটার ও মুঠোফোন বিপ্লবের যুগে বাংলাদেশে মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বিত অংশীদার হচ্ছে ইউএসএআইডি। সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইউএসএআইডি’র উপ-পরিচালক (জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য) অ্যালিসন বিয়ার এই মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ইউএসএআইডি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে অ্যালিসন বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশে বেশ ভাল কাজ হচ্ছে। এদেশে ৮০ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে মোবাইল ফোন রয়েছে। এর ফলে সারাদেশে এমনকি হাওর বা শহরের বস্তি যেখানে মানুষের কাছে পৌঁছোনো কঠিন সেসব এলাকায়ও সব ধরণের তথ্য সমানভাবে সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় ইউএসএআইডি’র ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১১ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন সেবা দেয়া শুরু হয়। ‘আপনজন’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পাঁচ লাখের বেশি পরিবারকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গর্ভকালীন তথ্য, নবজাতকের যত্ন, পরিবার-পরিকল্পনা ও বয়োসন্ধিকালের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসেবা দিয়েছি।

মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যক্ষারোগের চিকিতসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে ইউএসএআইডি। এ প্রসঙ্গে সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের এই কর্মকর্তা জানান, যক্ষ্মারোগের চিকিতসা দীর্ঘমেয়াদী। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র থেকে পূর্ণ চিকিতসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জাতীয় যক্ষা কর্মসূচী’র আওতায় ইউএসএআইডি কমিউনিটিভিত্তিক সেবা চালু করেছে যাতে বাড়িতে বসেই যক্ষ্মারোগী পূর্ণ চিকিতসা নিতে পারে। ফলে তারা পরিবারের সঙ্গেও থাকতে পারছে, আবার যথাসম্ভব কাজও করতে পারছে। এছাড়াও ইউএসএআইডি বাংলাদেশ সরকারকে টেলিমেডিসিন চালু করতে সহায়তা দিচ্ছে। এই সেবার মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগীরা তাদের মোবাইল থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে চিকিতসকের পরামর্শ নিতে পারবে।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রযুক্তিগত ‍উন্নয়নেও সহযোগিতা করছে ইউএসএআইডি। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে অনলাইনে রোগীর রেকর্ড রাখা, প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঔষধ ও চিকিতসা সরঞ্জাম ক্রয় ও সরবরাহসহ সবকিছুই ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে।

XS
SM
MD
LG