অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

“রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকায় মাতৃমৃত্যু হার কমাতে পেরেছে বাংলাদেশ”-ড. কোকি আগারওয়াল


ড. কোকি আগারওয়াল

ড. কোকি আগারওয়াল

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকায় মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে সরকারের অঙ্গীকার পূরণের আকাঙ্খার ভিত্তিতে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন। ইউএসএআইডি’র মেটারনাল এন্ড চাইল্ড সারভাইবাল প্রোগ্রাম এবং এমচিপ কার্যক্রমের পরিচালক ড. কোকি আগারওয়াল সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।

আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এখনো বিশ্বে অপ্রত্যাশিত মাতৃমৃত্যুর উচ্চ হার রয়েছে। আমরা জানি, মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে আমাদের অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ মা সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন। আমাদের দেখতে হবে এই হার আরো কমিয়ে আনতে কি ধরনেরর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া যায়, যেগুলো বিভিন্ন দেশ জাতীয় কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশের সরকারের সঙ্গে ইউএসএআইডি মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে ড. কোকি আগারওয়াল বলেন, বিশ্বজুড়ে মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনার সময় এখনই। কারণ বিশ্বজুড়ে আমরা এ বিষয়ে অনেক মনোযোগ, দাতাদের অনেক কর্মসূচী, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ততা দেখছি। বিশ্বজুড়ে এখনও ৫০ শতাংশেরও কম মায়েরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। তাই মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে আমাদেরই তাদের দোর গোড়ায় সেবা নিয়ে যেতে হবে। এটিই ভাল সমাধান হবে। আর এ কারণেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের কর্মসূচী সম্প্রসারণ করছে।

বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নেতৃত্বের অঙ্গীকারের কারণে মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। একারণেই সম্পদের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সম্প্রতি এমডিজি ৪ ও ৫ লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে রয়েছে। এটি কাকতালীয়ভাবে ঘটে গেছে এমন কোন ব্যাপার নয়। বরং সরকারের অঙ্গীকার পূরণের আকাঙ্খার ভিত্তিতে পরিবার পরিকল্পনা ও দক্ষ ধাত্রী সেবা নিশ্চিতকরণের মতো কার্যকর কৌশলগুলো নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।

কোকি আগারওয়ালের মতে, এখনো বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েই গেছে। বর্তমানে এখানে এক লাখ শিশু জন্মের বিপরীতে ১৯৪ জন মা মারা যাচ্ছেন। বিশ্ব জুড়ে এই হার ২০৩০ সাল নাগাদ ৭০ জনে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ চলছে। আর এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশ সফল হবে বলে বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তা।

XS
SM
MD
LG