অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

খাচ্ছি রাস্তার মজাদার খাবার, শরীরে ঢুকছে বিষ


শরীফ-উল হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়- ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

ঢাকার চটপটি, ফুচকা, ঝাল-মুড়ি, ভাপা পিঠা কলকাতার আলু-কুবলি বা দিল্লীর পানি পুরি’র স্বাদ নেননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। কেবল ঢাকা নয় পুরো দেশেই রাস্তার পাশে প্রচুর খাবারের দোকান দেখা যায় যা যেকোনো খাবারের চেয়ে বহুগুণে জনপ্রিয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গ্যস্ট্রিক, এসিডিটি বা জন্ডিসের ভয় লোভের কাছে পরাস্ত হয়। কিন্তু এইসব খাবার তৈরীতে পরিচ্ছন্নতা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের অভাব দেখা যায়। যার ফলে পানিবাহিত রোগসহ দেখা দেয় নানা শারিরীক জটিলতা। ডা. লুবানা তাসমিম অমি বললেন...এইসব খাবার আমরা শুধু মজার জন্য খাচ্ছি না, সাথে সাথে মারাত্মক বিষ ঢুকে যাচ্ছে আমাদের শরীরে। এই সব পোড়া তেলে ভাজা খাবার খাওয়া্র ফলে কিডনী রোগ, পাকস্থলীর প্রদাহ, আলসার, গ্যাস্ট্রিকসহ আরো জটিল রোগ হবার সম্ভাবনা থেকে যায়।

এইতো গেল পোড়া তেলে ভাজা খাবারের কথা। প্রচন্ড গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা...ঠিক তখনই চোখে পড়ল আখের রস বা ঠান্ডা লেবুর শরবত। লোভ আটকে রাখতে পারবেন কি আপনি? ডা. লুবানা আমাদের আরো জানালেন, এই সাময়িক এই প্রশান্তি দীর্ঘ জীবনের ক্ষতির কারণ। যে কেমিক্যাল রঙ কাপড়ের জন্য ব্যবহার করা হয়, সেই কাপড়ের রঙ শরবতে ব্যবহারের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ত্রমশ অচল হয়ে যায় এবং খাদ্য হজম শক্তি কমে যায়। যার ফলে বাসা বাঁধে আরো মারাত্মক সব রোগ।

যারা খাচ্ছেন কিংবা বিক্রি করছেন তারা কতটা সচেতন? শরবতের পানি সরাসরি ওয়াসার লাইন থেকে এবং বরফ মাছ বাজার থেকে সংগৃহিত জানার পরও কি খেতে চাইবেন এক গ্লাস শরবত?

শুধু হাকডাকেই সীমাবদ্ধ বিক্রেতারা। তারা নিজেরাও জানেন না, কি তুলে দিচ্ছেন ক্রেতার হাতে। শরবতে ব্যবহৃত নাম না জানা কেমিক্যালে সোডিয়াম সাইক্লামেটের পরিমাণ হাজার গু্ণ বেশি যা একশত ভাগ ক্যান্সারের ঝুঁকি-জানলে কি বিক্রেতারা পারতেন বিক্রির ফাঁকে নিজেও এক চুমুকে গলা ভিজিয়ে নিতে? তাদের অজ্ঞতা, জীবিকার তাগিদ, তাদের বাধ্য করে এইসব ভেজাল খাবার বিক্রি করতে।

দরকার একটু বিবেচন্‌ একটু চোখ-কান খোলা রাখা। যখন-তখন যেখানে-সেখানে রাস্তার খাবারের লোভ সামলাতে না পারলে, আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর সব রোগ, যারা আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে মৃত্যুর দুয়ারে।

XS
SM
MD
LG