অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়: ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

বাংলাদেশ প্রথম সারির দেশ যারা জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন বা সনদ (সিআরসি) স্বাক্ষর করেছে। ১৯৯০ সালের আগষ্ট মাসে স্বাক্ষর করলেও ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ এই সনদ গ্রহণ করে। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও চলতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় সিআরসি’র ২৫ বছর উদযাপন করেছে।

বাংলাদেশ সরকার সনদটিতে স্বাক্ষর করার পর শিশু অধিকার রক্ষায় অনেক প্রশংসণীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় শিশু নীতিমালা ২০১১, শিশু আইন ২০১৩, জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা ২০১০ এবং জাতীয় শিশু শ্রম নিরোধ নীতিমালা ২০১০ প্রনয়ন উল্লেখযোগ্য। একইসঙ্গে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থাগুলো তাঁদের কর্মকৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়নে শিশু অধিকার সনদে অর্ন্তভুক্ত অনুচ্ছেদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যার ফলে দেশে শিশু শিক্ষার হার বেড়েছে, শিশু মৃত্যহার কমেছে, স্কুলে শারীরিক শাস্তি অবৈধ করা হয়েছে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এতো সাফল্যের পরেও প্রশ্ন রয়েছে, বাংলাদেশে শিশুরা তাদের সকল অধিকার পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারছে কি?

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপার্সন এমরানুল হক চৌধুরী শিশু অধিকার সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের জন্য আরো অনেক কিছু করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার কৌশলগত কিছু জিনিস করতে পারেনি। আমরা জানি যে, আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। তাদেরকে একজায়গা থেকে দেখভালের জন্য সরকারের আলাদা কোন বিভাগ বা অধিদপ্তর নেই। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ডেস্ক বাংলাদেশের সবশিশুর ব্যাপারগুলো দেখাশুনা করছে। আর দেশের ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর (শিশুদের) বিষয়গুলো যদি একজন লোক দেখে তাহলে কিভাবে শিশু উন্নয়ন হবে? সেজন্য আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, দ্রুত একজন সচিবের নেতৃত্বে শিশু বিষয়ক আলাদা বিভাগ বা অধিদপ্তর করা হোক।

তিনি শিশুদের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের সুপারিশ করে বলেন, সরকার বলে তারা শিশু শিক্ষার জন্য অনেক অর্থ দিচ্ছেন, কিন্তু এর কোন ট্রেকিং ব্যবস্থা নেই। আজকে অনেক পথশিশু বাড়ছে, শিশুশ্রম বাড়ছে, স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার হার বাড়ছে। এদের জন্য কিছু করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কিন্তু ট্রেকিং ব্যবস্থা না থাকায় শিশুর জন্য বরাদ্দ কতো তা সরকার জানে না সার্বিকভাবে, হয়তো মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে আলাদা হিসেব আছে। ৮৯টি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে মাত্র ৪টিতে শিশুর বিষয় রয়েছে। তাই আমরা বলছি, বাজেটে শিশুর জন্য বরাদ্দ শিশুর সংখ্যা ও সমস্যার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাই আমরা বলছি, বাজেটে শিশুর জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রেকিং ব্যবস্থা তৈরী করতে হবে।

এতো গেল বিশেষজ্ঞ অভিমত। বাস্তবতা হচ্ছে সিআরসি‘র দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা থেকে সরকার এখন পর্যন্ত আপত্তি তুলে নেয়নি। শিশু অধিকার সনদের ২৫ বছরে এসে তাই বলতে হয়, এখনো শিশুর জন্য আরো কিছু করার আছে।

XS
SM
MD
LG