অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আঙ্গুর নাহার মন্টি

ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার,

সহযোগিতায়: ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

পহেলা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। এইচআইভি/এইডস বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএনএইডসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ক্লোজ দ্য গ্যাপ’। তবে বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এইডস দিবস পালনে ‘এইচআইভি সংক্রমণ এবং এইডস মৃত্যু নয় আর, বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়বো সবাই এই আমাদের অঙ্গীকার’ এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশেরএইচআইভি-এইডস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জাতীয় এইডস বিষয়ক কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর হুসাইন সারওয়ার খান জানান, ইউএনএইডসের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির অনুমিত সংখ্যা প্রায় দশ হাজার ৫০০। আর সরকারি হিসেব মতে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ২৪১ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। এ পর্যন্ত এইডসের কারণে মারা গেছে ৪৭১ জন। বাংলাদেশে এইচআইভি-এইডস রোগীর সংখ্যা পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় অনেক কম। এই সংখ্যা শূণ্য দশমিক এক শতাংশেরও কম।

বাংলাদেশ এইচআইভি-এইডস ঝুঁকিমুক্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে জনগণের সবসময় যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর (যৌনকর্মী ও শিরায় মাদক সেবনকারী তরুণ সমাজ এবং হিজড়া) মধ্যে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। তবে গ্লোবাল ফান্ডসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এনএএসপি এইচআইভি-এইডস কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

একটা সময় ছিল যখন এইচআইভি-এইডস রোগের নাম শুনলেই মানুষ ভয় পেত৷ এখন সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে৷ তবে এখনো এই বিষয়ে চ্যালেঞ্জগুলো রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে হুসাইন সারওয়ার খান বলেন, বাংলাদেশে যে জনগোষ্ঠীকে নিয়ে এইচআইভি-এইডস বিষয়ে কাজ চলছে, তারা একটি স্টিগমার মধ্যে রয়েছেন। আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় তারা কোথাও গিয়ে এইচআইভি-এইডস বিষয়ে সেবা নিতে পারছে না। তারা সেবাকেন্দ্রে গিয়েনিজেদের যৌনকর্মী বা শিরায় মাদকগ্রহণকারী পরিচয় দিতে পারছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই পরিচয় গোপন করে। এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবসময় এডভোকেসি করে যাচ্ছি”।

বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার কম হলেও প্রতিবেশি দেশে সংক্রমণের উচ্চহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও আচরণের কারণে এই হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেক্ষেত্রে এইচআইভি-এইডস রোগীর চিকিৎসা ও সেবার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচী জোরদার করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

XS
SM
MD
LG