অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কাজের মাঝে শিশু করবে মায়ের দুধ পান-সবাই মিলে সব খানে করি সমাধান

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

প্রযোজনায় - রেডিও টুডে প্রাইভেট লিমিটেড

‘কাজের মাঝে শিশু করবে মায়ের দুধ পান, সবাই মিলে সব খানে করি সমাধান’ – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১-৭ আগস্ট সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়েছে।

এবার প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চাকরির সুরক্ষা ও বৈষম্যহীনতা, মাতৃদুগ্ধদানের বিরতি ও সুব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে যুক্ত করা হয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নে সর্বস্তরে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সপ্তাহ উদযাপন করছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ-সবল করে গড়ে তুলতে জন্মের পর থেকেই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে ইউএসএআইডি’র জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. ইফতেখার রশীদ বলেন, বাচ্চাকে জন্মের পর থেকেই বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে, যদিও আমরা জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে শুরু করতে বলি। সেক্ষেত্রে শালদুধ বাচ্চাকে দেয়া যায় যার অনেক উপকারিতা আছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। এবং ছয়মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ দিতে হবে। পানিও দেয়ার দরকার নেই। কারণ মায়ের দুধ শিশুর জন্য একটি সম্পূর্ণ খাবার। এর মধ্যে পানি, পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধকারী প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো যথেষ্ট পরিমাণ আছে। শিশুর ছয়মাস বয়স হয়ে গেলে তাকে বাড়তি খাবার দিতে হবে, কারণ তখন মায়ের দুধ যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে বাসায় তৈরী খাবার দিতে হবে।

কর্মজীবি মায়ের সন্তানদের বুকের দুধ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরো বলেন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বুকের দুধ খাওয়ানোর সুব্যবস্থা রাখতে হবে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্রে ডে কেয়ার সার্ভিসটা নেই। অথচ এটি থাকা দরকার। যেখানে শিশুকে রেখে মা কাজ করবেন ও প্রয়োজনে বুকের দুধ খাওয়াবেন। তা না হলে আমরা বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়াতে পারবো না। এতে শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে বড় ধরণের সমস্যা থেকেই যাবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সঠিক প্রচার ও প্রসারের ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৫৭ শতাংশ, শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৪ শতাংশ এবং ২ বছর পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এদিকে বাংলাদেশে মায়ের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্য এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও এর ব্যবহার সরঞ্জামাদি বিপণন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শিশুবান্ধব করা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাসে উন্নীত করা ও সরকারি-বেসরকারি অফিসে ‘ব্রেস্টফিডিং কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কর্মস্থলে শিশুকে মায়ের দুধ ও ঘরে তৈরী খাবার নিশ্চিত করার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

XS
SM
MD
LG