অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

২০১৪ সাল জুড়ে স্বাস্থ্যখাতে নানা অগ্রগতি


আঙ্গুর নাহার মন্টি

ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

পোলিওমুক্ত সনদ অর্জন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী, শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ নিয়ন্ত্রণের মতো নানা অর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালটি পার করেছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, পোলিও নিমূর্লের জন্য গত ২৭ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)সনদ অর্জন করেছে। শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ নিয়ন্ত্রণে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এমআর টিকাদান কর্মসূচী চলেছে। এর আওতায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৩ জন শিশুকে টিকা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণসহ দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সেবার মান ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচীর অন্যতম হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচী। এর মাধ্যমে ৫ কোটি শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা অনেক নতুন কম্যুনিটি ক্লিনিক করেছি। প্রায় সব উপজেলা ও জেলায় হাসপাতাল হয়েছে এবং অনেক হাসপাতাল আপগ্রেড করা হয়েছে ও সেখানে ডাক্তার দেয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এ পযর্ন্ত ১২টি নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিদায়ী বছরে পদ সৃষ্টি, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ স্বাস্থ্যখাতের জনবলে নতুন গতি আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, গত বছরে আমরা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে আরো সাড়ে ৩ হাজার স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এখনও অনেক করার বাকি আছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনও বেশিরভাগ মায়েরা হাসপাতালে গিয়ে শিশুর জন্ম দিচ্ছে না। মাত্র ৩০ ভাগ হাসপাতালে যাচ্ছেন। বাকি মায়েরা বাড়িতেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে যা মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে হাসপাতালে সন্তান জন্মদানের হার ৫০ শতাংশেউন্নীত করা।

স্বাস্থ্যখাতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জ।

বছরের মধ্যভাগে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ইবোলা ভাইরাস দেখা দিলে ঐ দেশগুলোতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী ও সাধারণ মানুষ থাকায় সারা বিশ্বের মতো এদেশেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে ইবোলা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশ ইস্যুটি সফলভাবেই মোকাবেলা করেছে, যা নিঃসন্দেহে বিদায়ী বছরের একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা।

XS
SM
MD
LG