অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শিশু সুরক্ষা এবং অধিকার


শিশু সুরক্ষা এবং অধিকার

শিশু সুরক্ষা এবং অধিকার

শরীফ উল হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়- ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অফ আমেরিকা

বরিশাল সদরের কাশিপুর ইউনিয়নে বাবা-মা’র সাথে বসবাস করে রিতা। চোখে স্বপ্ন ছিল বন্ধুদের মত শিক্ষিত হয়ে বড় হবে। কিন্তু, বাধ সাধল দারিদ্র। স্কুলের বই-খাতা, বেতন দিতে না পেরে এক সময় বন্ধ হয়ে যায় তার লেখা পড়া। কাজ নিতে বাধ্য হয় রিতা বাবা-মাকে সাহায্য করার জন্য।


কমলাপুরের হাকিম। যাকে সবাই কুলির সহযোগী হিসেবে চেনে। অভাবের সংসার সাথে খারাপ ছেলেদের সঙ্গ তাকে পৌঁছে দিয়েছে নেশার জগতে। পাশের বস্তিতেই তার থাকার জায়গা। কিন্তু, দুবেলা যাদের খাবার জোটে না তাদের স্কুলে যাবার স্বপ্ন কিভাবে পূরণ হবে? পরিবারকে সাহায্যের তাড়না এবং খারাপ বন্ধুরা তাকে ধীরে ধীরে নেশাগ্রস্ত করে তোলে।

এইরকম হাজারো রিতা, হাকিম ছড়িয়ে আছে আমাদের সমাজে। যারা সমাজের অবহেলাকে সাথী করে বেড়ে উঠছে। শিশুরা হচ্ছে জাতির ভবিষ্যত এবং একইসাথে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ। তাদের প্রতি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অপ্রিয় সত্য, শিশুদের প্রতি যত্ন নেয়া দূরে থাক খবরদারীতে সবাই দক্ষ। বাংলাদেশ প্রথম সারির দেশ যারা জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন বা সনদেস্বাক্ষর করেছে। ১৯৯০ সালে স্বাক্ষরিত হলেও ১৯৮৯ সালের ২০শে নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার পরই বাংলাদেশ তা গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশু কল্যাণ বোর্ড, শিশু বিষয়ক ডেস্ক স্থাপনসহ শিশুর উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ১৮ বছরের কম বয়সের জনসংখ্যা ৬ কোটি ৩০ লক্ষ, তারা কতটা নিরাপত্তাহীন তার যথেষ্ট উদাহরণ আমরা চারপাশে দেখতে পাই যার মধ্যে রয়েছে শিশু শ্রম, বাল্য বিবাহ, গৃহকর্মী নিয়োগ, শিক্ষাহীনতাসহ অবহেলার অসংখ্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপার্সন এমরানুল হক চৌধুরী আমাদের বলেন, আরো ব্যাপক পরিসরে শিশু সেবা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভব হবে তাদের উন্নত এবং সমৃদ্ধ জীবন গঠন। সাথে তিনি আরো বলেন,কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ বাংলাদেশ এখনও গ্রহণ করতে পারেনি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে শিশু ডেস্কে মাত্র একজন অফিসার। যার একার পক্ষে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৫ শতাংশ শিশুকে সেবা দেয়া সম্ভব নয়।

সরকার একা নয়, আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে শিশু অধিকার রক্ষায়। নিজের পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, নজর দিতে হবে একটি শিশুও যেন অযত্ন-অবহেলার শিকার না হয়। জাতির সোনালী ভবিষ্যতের স্থপতি শিশুরাই। তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে, জায়গা করে দিতে হবে তা কাজে লাগানোর। তবেই না সুন্দর হবে সমাজ,সুন্দর হবে দেশ।


XS
SM
MD
LG