অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা


আঙ্গুর নাহার মন্টি

ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

জেঁকে বসা তীব্র শীতে বড়দের পাশাপাশি ছোট্ট সোনামনিরাও অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, সর্দিজ্বর, কাশিসহ নানা রোগের আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলো ও শিশু বিশেষজ্ঞদের কাছে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা।

শীতকালে শিশুদের নানা রোগ ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদ হোসেন মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের সময় শিশুদের ব্রঙ্কিউলাইটিস বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। এটি একটি ভাইরাস যার মাধ্যমে ফুসফুসে ইনফেকশন হলে শিশুরা ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে ভোগে। এই ঠান্ডার প্রভাবে তার শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে যাকে হাইপো থার্মিয়া বলা হয়। শীতকালে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে নিউমোনিয়া যা ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ঘটায়। এক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ নিউমোনিয়ার কারণে আমাদের দেশে নবজাতক ও শিশু মৃত্যু বেশি ঘটে।

শীতের সময় নানা রোগে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় নবজাতকরা। মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীর আলোয় এসে তীব্র শীত মোকাবেলা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সেজন্য দরকার বিশেষ যত্ন। এ ব্যাপারে ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ঠান্ডার সময় নবজাতককে ঠিকমতো থার্মাল প্রটেকশন দেয়া না গেলে অর্থাৎ উষ্ণ না রাখা গেলে অনেক ধরণের জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে প্রি-ম্যাচিউরড ও কম ওজনের বাচ্চাদের বেশি সমস্যা হয়। এসময় বিশেষ যত্ন ও ব্যবস্থা না নিলে নবজাতক মারাও যেতে পারে।

তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পরপরই তাকে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাথা ভাল করে ঢাকতে হবে। শিশুর ঘরটি পরিচ্ছন্ন ও উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবচেয়ে ভাল হচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত পদ্ধতি ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার অর্থাৎ মায়ের শরীরের সঙ্গে শিশুকে জড়িয়ে রাখা। এতে মায়ের শরীরের উষ্ণতায় শিশুকে সুরক্ষিত রাখে।

আমাদের দেশে অনেক অঞ্চলে এখনো বিদ্যুত পৌছুঁয়নি। সেখানে মাটির হাড়িতে কয়লার আগুন বা গরম পানি দিয়ে ঘর উষ্ণ রাখার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া শীতে কাবু শহর ও গ্রামের বিশেষ করে নগরীর ভাসমান ও দরিদ্র মানুষেরা গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত থেকে বাচাঁর চেষ্টা করে। এতে করে প্রায়ই শিশু এমনকি বড়রাও দুর্ঘটনার শিকার হন। ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে শীতের সময় গরম পানিতে বা আগুনে পোড়া রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যায়। তাই আগুন পোহানোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। নিরাপদ ও সুস্থ থাকুন।

XS
SM
MD
LG